মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:৩০ পিএম
মানিকগঞ্জে রাত জেগে পেঁয়াজক্ষেত পাহারা দেয় কৃষকরা। প্রবা ফটো
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে চুরির আশঙ্কা করছে অনেক কৃষক। অবশ্য আশঙ্কার কারণও রয়েছে। ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ চুরির বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৩ বিঘা জমির পেঁয়াজ চুরি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছে।
পেঁয়াজ চুরির আশঙ্কায় ভীষণ আতঙ্ক বিরাজ করছে হরিরামপুরের পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে। এমতাবস্থায় কৃষকরা রাত জেগে পেঁয়াজক্ষেত পাহারা দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেকে আবার অপরিপক্ব পেঁয়াজ উঠিয়ে বিক্রিও করছে। তাতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার বাল্লা, চালা, গালা, গোপীনাথপুর, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে আগাম মুড়ি কাটা পেঁয়াজের চাষ করে থাকে কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন এবার অনেকটা ভালো হওয়ারই কথা ছিল। তাতে বড় স্বপ্ন দেখছিল কৃষকরা। কিন্তু চুরির ভয়ে এখন অপরিপক্ব পেঁয়াজ উঠিয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে উপায় না দেখে চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পেঁয়াজক্ষেত পাহারা দিচ্ছে এ এলাকার কৃষকরা। ক্ষেতের পাশে অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তুলে সেখানেই রাত কাটায় তারা।
খবরের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। বাহিরচরের কৃষক লাল খানের ছেলে আব্দুল মালেক তাদের একজন। তিনি জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন তিনি। সার কীটনাশকের দাম বাড়ায় পেঁয়াজ আবাদে এবার খরচ বেশি হয়েছে তাদের। তবে যেহেতু পেঁয়াজের দাম ভালো, সেক্ষেত্রে তাদের লাভবান হওয়ার কথা। কিন্তু কৃষকের লাভের আশায় থাবা বসায় কিছু দুষ্কৃতকারী। পাঁচ বিঘা জমির মধ্যে তিন বিঘার পেঁয়াজ চুরি হয়ে গেছে তাদের। যে কারণে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করছেন বলে জানান মালেক।
একই এলাকার কৃষক মঙ্গলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগে তার ক্ষেতের পাশের জমি থেকে এক কৃষকের পেঁয়াজ চুরি হয়েছে। এরপর থেকেই রাত জেগে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন তিনি। এখন পেঁয়াজের আকার বড় হলেও তোলার উপযোগী হয়নি। তারপরও এখনোই পেঁয়াজ তোলা হচ্ছে। সঠিক সময়ে তুলতে পারলে ৪২ বিঘা জমিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ পেঁয়াজ হতো। কিন্তু আগে ওঠানোর কারণে ৩৫ থেকে ৪০ মণ পেঁয়াজ হবে।
এদিকে এবার ৪০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন একই গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদ। কিন্তু মন খারাপ করেই তিনি জানান যে—কয়েক দিন আগে তার ১০ বিঘা জমির পেঁয়াজ চুরি হয়ে গেছে। যে কারণে তিনিও অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করছেন।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার বিভিন্ন ওয়ার্ড সদস্য পেঁয়াজ চুরি হওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তবে পাহারা বসানোর পর থেকে আর চুরি হয়নি।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘এ অঞ্চলের জমি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উপজেলায় বাল্লা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এ বছর উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে কন্দ (মুড়ি কাটা) পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে।’
হরিরামপুর থানার ওসি শাহ নুরে আলম জানান, পেঁয়াজ চুরির ব্যাপারে এ পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।