× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হানাদারমুক্ত দিবসে লাঠিখেলা

নওগাঁ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:১৭ পিএম

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২৫ পিএম

একুশে পরিষদের আয়োজনে নওগাঁর শহরের এটিম মাঠে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। প্রবা ফটো

একুশে পরিষদের আয়োজনে নওগাঁর শহরের এটিম মাঠে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। প্রবা ফটো

নওগাঁ হানাদারমুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর। দিনটি স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলার হারিয়ে যাওয়া এতিহ্য লাঠিখেলা। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘একুশে পরিষদ’ নওগাঁর উদ্যোগে শহরের এটিম মাঠে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বরাবরের মতো সংগঠনটির পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। খেলায় তিনটি দল অংশ নিয়ে শারীরিক কসরত প্রদর্শন করে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শারীরিক কসরতের আয়োজন হয়ে উঠেছিল আনন্দময়।

এর আগে সকাল ১০টায় এটিম মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রায় একুশে পরিষদ নওগাঁর উপদেষ্টা অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান, সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারী, সাধারণ সম্পাদক এম এম রাসেলসহ সংগঠনের সদস্য ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও পাল্টা আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন লাঠিয়ালরা। তাতে উৎসাহ দিচ্ছেন শতশত দর্শক। ঢাকঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার তালে তালে লাঠির এই কসরত দেখতে মানুষের ঢল নামে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন ঘিরে। লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজনের আগমনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

খেলা দেখতে আসা নাইস পারভীন বলেন, ‘লাঠিখেলা বাংলার একটি প্রাচীন খেলা। এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। নতুন প্রজন্মকে তারা জানাতে পারছে আজকের এই দিনে নওগাঁ হানাদারমুক্ত হয়েছিল। হারিয়ে যাওয়া লাঠিখেলা সম্পর্কেও জানতে পারছে নতুন প্রজন্ম।’

স্থানীয় এক স্কুলের শিক্ষার্থী লুবনা আক্তার বলে, ‘বাবার সঙ্গে লাঠিখেলা দেখতে এসেছি। এর আগে সরাসরি কখনও এই খেলা দেখিনি। দারুণ উপভোগ করেছি।’ 

একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারী বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু নওগাঁ দুই দিন পর হানাদারমুক্ত হয়। পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে কীভাবে নওগাঁ স্বাধীন হয়েছে, সেই বার্তা আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমরা কয়েক বছর ধরেই হানাদারমুক্ত দিবস পালন করে আসছি। লাঠিখেলা গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় লাঠিয়াল বাহিনী ও তিরন্দাজরা হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। এটিও একটি স্মৃতিচিহ্ন।’

উল্লেখ্য ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর ঢাকায় আত্মসমর্পণের খবর পেয়েও নওগাঁর হানাদার বাহিনী অত্মসমর্পণ করবে না বলে ঘোষণা দেয়। ফলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জালাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে পরদিন সকালে প্রায় ৩৫০ মুক্তিযোদ্ধা নওগাঁ শহরের দিকে অগ্রসর হন। ১৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী জগৎসিংহপুর ও খলিশাকুড়ি গ্রামে আসতেই পাকিস্তানি সেনারা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। 

১৮ ডিসেম্বর শনিবার সকালে বগুড়া থেকে অগ্রসরমান ভারতীয় মেজর চন্দ্রশেখর, পশ্চিম দিনাজপুর বালুরঘাট থেকে পিবি রায়ের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী নওগাঁয় প্রবেশ করলে হানাদার বাহিনীর আর কিছুই করার ছিল না। সকাল ১০টায় প্রায় ২ হাজার পাকিস্তানি সেনা রাস্তার দুপাশে মাটিতে অস্ত্র রেখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নতমস্তকে আত্মসমর্পণ করে।

তৎকালীন নওগাঁ মহকুমার প্রশাসক সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীকে স্বাগত জানান। বর্তমান পুরাতন কালেক্টরেট (এসডি) অফিস চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা পতাকার প্রতি সালাম জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা