× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

গাজীপুরে ট্রেনে নাশকতা হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য

গাজীপুর ও শ্রীপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:২৮ পিএম

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৫ পিএম

সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রবা ফটো

সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রবা ফটো

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেনে নাশকতার ঘটনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হরতাল-অবরোধ সফলে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য রেললাইন বেছে নেয় যেন দেশ-বিদেশে আলোড়ন তৈরি হয়। 

রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটি পুলিশের কমিশনার মাহবুব আলম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, জান্নাতুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হাসান আজমল ভূঁইয়া, জুলকার নাইন আশরাফি ওরফে হৃদয়, শাহানুর আলম, মো. সাইদুল ইসলাম ও সোহেল রানা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই বিএনপির নেতাকর্মী।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের বনখরিয়া এলাকায় ২০ মিটার রেলপথ কেটে ফেলে নাশকতাকারীরা। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ছয়শ মিটার রেলপথ। এতে একজন নিহত হয়। আহত হয় ১০ জন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ’ঘটনার পরপরই পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে। শনিবার দুষ্কৃতকারী দলের সদস্য জান্নাতুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জান্নাতুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ট্রেনে নাশকতার ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে তারা মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু তারা ঢাকায় না গিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। মাইক্রোবাসের চালক একজকে চিনতে পারে। তারা গাজীপুর শহরের জোড় পুকুরপাড়ের ইবনে সিনহা হাসপাতাল এলাকায় তোহার বাসা থেকে রেললাইন কাটার যন্ত্রপাতি, দক্ষিণ সালনা উসমান গণির ভাড়া দেওয়া বাঁশবাগান রেস্টুরেন্ট থেকে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার গাড়িতে ওঠায়। রাত ১০টায় শিমুলতলী এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খায় তারা। খাবার শেষে ১১টার পর আবার শহরের ভেতরে বিভিন্ন অলিগলিতে ঘোরাঘুরি করে। রাত দেড়টার দিকে বনখরিয়া বনের পাশে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে গ্যাস সিলিন্ডারসহ সরঞ্জামাদি নিয়ে চিনাই রেলসেতুর কাছে যায়। সেখানে গিয়ে তারা একত্রে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সুযোগ বুঝে রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলসড়কের ২০ ফুট রেললাইন গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এর কিছু সময় পর ওই রেলসড়কে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস আসে। ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার শিকার হয় রেলগাড়িটি। রেললাইন কাটার পর তারা ওই গাড়ি নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে চারজন গাড়ি থেকে নেমে যায় এবং বাকি সদস্যরা মিরপুরে গিয়ে নামে। মিরপুরে নেমে তারা তাদের কাছে টাকা না থাকায় ফোনে এক ব্যক্তিকে ড্রাইভারের নম্বরে টাকা পাঠাতে বলে। ড্রাইভার সাইফুলের বিকাশে ৮ হাজার ১০০ টাকা পাঠানো হয়।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘নাশকতার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী সদস্যরা সকলেই বিএনপি ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা এবং সক্রিয় সদস্য।’ কমিশনার গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দিয়ে বলেন, ’১১ ডিসেম্বর রাতে কাউন্সিলর ও সাবেক বিএনপি নেতা আজমল ভূঁইয়ার বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে সভা হয়। ওই সভায় রেললাইন কেটে নাশকতা ঘটানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা করা হয়। উক্ত সভায় এ আলোচনা হয় যে দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে বড় কিছু করার চাপ আছে। বড় কোনো ঘটনা ঘটলে দেশ ও বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে বিধায় তারা রেললাইনে নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করে। সরকারের বর্তমান নির্বাচনী কার্যক্রমকে বিতর্কিত করা, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমানে বিরাজমান রাষ্ট্রীয় সু-শৃঙ্খল পরিবেশ নষ্ট করা, জনমনে ভীতি সঞ্চার করা এবং এর মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে ব্যাপক মিডিয়া কাভারেজ—এমন পরিকল্পনা থেকে তারা রেলসড়কে নাশকতা ঘটায়।’ এ ঘটনার কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জান্নাতুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম ও আজিম উদ্দিন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ত্বোহার নেতৃত্বে আটজন সরাসরি জড়িত ছিলেন। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা কাউন্সিলর হাসান আজমল ভূঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম, গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান, রেলওয়ে পুলিশের এসপি মো. আনোয়ার হোসেনসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা