গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:২৪ পিএম
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:৪৭ পিএম
ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। প্রবা ফটো
গাইবান্ধায় হঠাৎ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত এক সপ্তাহে জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছে শিশুসহ দেড় শতাধিক মানুষ। এ ছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতল ভবনের মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ড রোগীপূর্ণ। ডায়রিয়া বিভাগের ২০ সিটের ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে শিশুসহ ৩৫ জন। এ ছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ শিশু। এখানকার বেশিরভাগ শিশুই শীতজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনায়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া প্রতিদিনই জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে আসছে নানা বয়সের মানুষ।
ডায়রিরা ওয়ার্ডে সায়রন বিবি নামে এক নারী বলেন, ‘বুধবার রাত থেকে আমার নাতনি সিনহার হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরদিন ফার্মেসির দোকান থেকে খাবার স্যালাইন ও ওষুধ কিনে খাওয়াই কিন্তু কোনো কাজ হয় না। উপায় না পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করাই। দুই দিনের চিকিৎসায় আজ মোটামুটি সুস্থ আছে আমার নাতনি।’
সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপের হাট ইউনিয়নের চাঁদকরিম গ্রাম থেকে আসা মোমিনা বেগম বলেন, ‘আমার নাতি আবদুল্লাহর বয়স ১০ মাস। এ মাসের ১২ তারিখে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় সে। পরে সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করি। সেখানে দুই দিন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করাই। গত রাত থেকে পাতলা পায়খানা কমেছে, আজকে কিছুটা সুস্থ আমার নাতি।’
সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের কাবিলের বাজার এলাকা থেকে আসা জেসমিন বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চার বয়স আট মাস। এক মাস আগেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল তিন দিন। ২০ দিন না যেতেই আজ আবারও সকালে বমির সঙ্গে পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। তাই কোনো কিছু না ভেবে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।’
গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফনার্স স্বপ্না রানী প্রামাণিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শীতজনিত কারণে শিশুরা বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ রয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো শিশুসহ সব রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি।’
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুব হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত এক সপ্তাহে শিশু, বৃদ্ধসহ দেড় শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও অন্তত ৩৫ শিশু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মোনারুল নামে আট মাসের এক শিশু ও আবদুল হামিদ নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তাই শীতের এই সময় শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।