লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:১৬ পিএম
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:২৭ পিএম
লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় মোহাম্মদিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরে পতাকা অবমাননার অভিযোগে একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজারকে চড় মারার ঘটনা ঘটেছে। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেল শ্রমিকরা চড় মারা ওই ব্যক্তিসহ দুজনের ওপর হামলা চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হোটেলের আটজন শ্রমিককে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় মোহাম্মদিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। হোটেলটি এখন বন্ধ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহত ফারুক সদরের উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) ও আরিফুর রায়পুরের চরবংশী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা। তবে তাৎক্ষণিক আটকদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে মোহাম্মদীয়া হোটেল কর্তৃপক্ষ একটি পতাকা উত্তোলন করে। তহশিলদার ফারুক সেখানে নাশতা করতে এসে পতাকা এলোমেলো অবস্থায় দেখেন। এ নিয়ে হোটেলের ম্যানেজার রাকিবের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রাকিবকে চড়থাপ্পড় মারেন ফারুক। এটি দেখে হোটেলের শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুককে মারধরে করেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তহশিলদার আরিফুরও মারধরের শিকার হন। পরে আশপাশের লোকজন ফারুক ও আরিফুরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হোটেলের আট শ্রমিককে আটক করে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পরপরই হোটেল বন্ধ করে চলে যান ম্যানেজার। ফলে হোটেল কর্তপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মামলা করবেন জানিয়ে ভুক্তভোগী ওমর ফারুক বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসে মোহাম্মদিয়া হোটেল কর্তৃপক্ষ পতাকার অবমাননা করেছে। এতে প্রতিবাদ করায় হোটেলের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমি এ ঘটনায় মামলা করব।’
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওলি উল্যাহ বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা নিতে সদর থানাকে বলা হয়েছে।’