নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
অম্বরনগর ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলু
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা পেতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৯২ জন সুবিধাভোগীর কার্ড জব্দ করা অম্বরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলুকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মামুন তাকে শোকজ নোটিস পাঠান।
শাহজাহান মামুন নিজেই প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, (১৪ ডিসেম্বর) বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে নৌকায় ভোট নিশ্চিতে ৪৯২ সুবিধাভোগীর কার্ড জব্দ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান- এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে নোয়াখালীতে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি নোয়াখালী-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মামুনের দৃষ্টিগোচর হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলুকে শোকজ করা হয়েছে। সশরীরে এসে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি গতকাল অফিসে এসেছিলেন, আজকে (শুক্রবার) ব্যাখ্যা দেবেন বলেছেন।’
সুবিধাভোগীদের কার্ড জব্দের বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কোনোভাবেই কোনো ইউপি চেয়ারম্যান সুবিধাভোগীদের কার্ড জব্দ করতে পারেন না। খাদ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে দ্রুত সুবিধাভোগীদের কাছে আগামী দুই দিনের মধ্যে কার্ড ফেরত দিতে বলেছি।’
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের কাছে কার্ড জব্দের লিখিত অভিযোগ দেন ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া।
অভিযোগে বলা হয়, নোয়াখালী-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোরশেদ আলমের পক্ষে সোনাইমুড়ী উপজেলার ৫ নম্বর অম্বরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলু এবং ডিলার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের কার্ড জব্দ করেছেন। সেই সঙ্গে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দিলে কার্ড বাতিল করার হুমকি দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করছেন। অম্বরনগর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বা পরিচালনায় বাধাগ্রস্ত করা তথা নির্বাচনী অপরাধ। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলু তখন বলেছিলেন, প্রত্যেক ওয়ার্ড মেম্বারের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৯২ জন সুবিধাভোগীর কার্ড সংগ্রহ করে আমার কাছে রেখেছি। কার্ডধারীরা সরকারের দেওয়া ১০ টাকা মূল্যে ৩০ কেজি করে চাল পান। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে তারা চাল পেয়েছিলেন। আগামী এপ্রিল ও মে মাসে আবারও পাবেন। যেহেতু তারা সরকারের সুবিধা গ্রহণ করেন সেহেতু তাদের নৌকায় ভোট দিতে হবে। নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে আমরা এমপি সাহেবের (মোরশেদ আলম) সঙ্গে বৈঠক করেছি। ওয়ার্ডভিত্তিক কার্ডধারীদের সঙ্গেও বৈঠক করব। যারা নৌকার প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন আমরা তাদের কার্ড ফিরিয়ে দেব। এসব বিষয় এমপি সাহেবও জানেন।