প্রবা প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৫১ পিএম
বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথ। প্রবা ফটো
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথ। দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এ বছর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। গত দুই বারের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের গত ১০ বছরে আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে চার গুণ। দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
দশম সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় পঙ্কজ নাথ তার বাৎসরিক আয় দেখিয়েছিলেন ২১ লাখ ৬২ হাজার ৪১৫ টাকা। একাদশ নির্বাচনে আয় বেড়ে হয় ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ১৭ টাকা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পঙ্কজ নাথ বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৪৩ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা।
দশম সংসদ নির্বাচনে তার ব্যবসা থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৭০ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত খাতে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫২০ টাকা, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৬ লাখ ৬৬ হাজার এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তি ও পারিতোষিক করমুক্ত আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৪৮ টাকা।
একাদশ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় বছরে আয় দেখিয়েছেন ব্যবসা থেকে মাত্র ৩৬ হাজার টাকা, সংসদ সদস্য ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পারিতোষিক ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ও একই পদের ব্যাংক সুদ ২০ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৭ টাকা।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হলফনামায় ব্যবসা থেকে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে পারিতোষিক ও ভাতা ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৫০ টাকা আয় দেখিয়েছেন।
দশম সংসদ নির্বাচনে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ দেখিয়েছেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেখিয়েছেন ২০ লাখ ৩২ হাজার ৩০ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মোটরগাড়ি, উপহার হিসেবে পাওয়া ৬০ তোলা স্বর্ণ এবং ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেখানো অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ছিল ১৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা, ব্যাংক-ব্যালেন্স ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৯ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ১৪ লাখ ৬০ হাজার, ডিপিএস ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৮১৫ টাকা মূল্যের বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মোটরগাড়ি এবং স্ত্রীকে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দিয়েছেন ৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৪ টাকা।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার কাছে নগদ রয়েছে ৬ লাখ ৬২৬ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৫০ টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ১ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ৭৭ টাকা, ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৮১৫ টাকা মূল্যের বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, ৬৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে।
দশম সংসদ নির্বাচনে ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের রাজউকের প্লট ও স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের উল্লেখ করেছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় পূর্বাচলের প্লটের মূল্য ২৫ লাখ ২৫ হাজার ও স্ত্রীর নামে একই মূল্যের একটি প্লট দেখিয়েছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে একই স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে পাবলিক পরিবহন বাসের জন্য ২৩ হাজার ৬৭৯ টাকা ঋণ ছিল, একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ টাকা। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় কোনো ঋণের তথ্য দেননি।
দশম সংসদ নির্বাচনে স্ত্রীর নামে বছরে আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৭২ টাকা। নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৮৩ টাকাসহ স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন ৭ লাখ ১১ হাজার ৩৩৩ টাকা। একাদশ সংসদের নির্বাচনে হলফনামায় স্ত্রীর বছরের আয় ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬০৬ টাকা দেখিয়েছেন। নগদ ৪ হাজার ৬১১ টাকাসহ মোট ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ২২ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক তার স্ত্রী। কিন্তু দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদের তথ্য দেননি পঙ্কজ নাথ।
দশম সংসদের হলফনামায় নিজেকে এসএইচবি গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিহঙ্গ পরিবহনের চেয়ারম্যান, এনএইচবি গার্মেন্টস লিমিটেডের অংশীদার ও সবিতা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর হিসেবে উল্লেখ করেছেন পঙ্কজ নাথ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অসাতা সোলার নামে আরও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারের তথ্য দিয়েছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পেশার বিবরণী দেননি।