চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ০০:২৬ এএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ০০:৩৯ এএম
বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের শাহাদতস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ। বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মহানন্দা নদীর তীর থেকে তোলা। প্রবা ফটো
যুদ্ধের পারদর্শিতার কারণে সঙ্গীরা তাকে ডাকতেন ‘টাইগার’ বলে। পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া বুলেট কপালে বিদ্ধ হয়ে রণাঙ্গনেই মারা যান তিনি। তখন সঙ্গীরা চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমাদের টাইগার আর নেই!’ সেই দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। দেশ স্বাধীন হওয়ার দুই দিন আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের মহানন্দা নদীর তীরে প্রাণ হারান বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। জাতির এ সূর্যসন্তানকে সমাহিত করা হয় জেলার সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) এ যোদ্ধার ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী।
দেশের জন্য আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও বীরত্বের কারণে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে। এ স্বাধীনচেতা যোদ্ধাকে শুধু তার শাহাদতবার্ষিকীর দিন স্মরণ করে জেলাবাসী। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা বলছে, কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগের অভাবে এমন হাল।
জেলায় বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর নামে তিনটি কলেজ আছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে একটি ও শিবগঞ্জ উপজেলায় দুটি কলেজ রয়েছে। জেলা সদরের কলেজটি বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিনের নামে চিনলেও বাকি দুটোকে সোনামসজিদ ডিগ্রি কলেজ ও রাধাকান্তপুর কলেজ নামে চেনে অনেকেই। এ ছাড়া তাঁর নামে মহানন্দা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলেও এ নামে খুব কম লোকেই চেনে। এই সেতুকে ‘বারঘরিয়া ব্রিজ বা মহানন্দা সেতু’ নামেই চেনে স্থানীয়রা।
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই। এখানে থাকবে তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র, স্মৃতিবিজড়িত সবকিছুই। লেখক ও সাংবাদিক সাজিদ তৌহিদ বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এখানে যুদ্ধ করেছেন, তিনি এই মাটিতেই শুয়ে আছেন। এ জেলায় তাঁর নামে সংগ্রহশালা অনেক অগেই নির্মাণ করা উচিত ছিল। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরেও তাঁর নামে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণ হয়নি, এটাই দুঃখজনক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখতে হলে অবশ্যই একটি সংগ্রহশালা প্রয়োজন।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর যেমন সাহসী ছিলেন, তেমনই ছিল তাঁর দেশপ্রেম। পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত অবস্থায় পালিয়ে এসে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। এ থেকেই প্রমাণ হয় তিনি কেমন দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি যেমন সহযোদ্ধাদের কথা ভাববেন, তেমন শত্রুসৈন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধাবোধ করতেন না। তাঁর নামে একটা সংগ্রহশালা হওয়া খুবই প্রয়োজন। তথ্য প্রমাণ পেতে কিছুটা কষ্ট হলেও এখনও সঠিকটা পাওয়া সম্ভব। পরে সেটা হবে না।’
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খান বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সংগ্রহশালা হলে আগামী প্রজন্ম অনেক কিছু শিখতে পারবে, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারে।’