রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:৫০ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:১৮ পিএম
রাঙ্গুনিয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাম শিকদারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকায় আনন্দ-মিছিল করেছে রাজারহাট বাজার সমিতি ও এলাকাবাসী। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী আবদুস সালাম শিকদার প্রকাশ ওরফে কানা সালামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হাইকোর্টে বহাল থাকায় এলাকায় আনন্দ-মিছিল হয়েছে। এ ছাড়া মিষ্টিও বিতরণ করেছে এলাকাবাসী।
হাইকোর্টে রায় বহালের খবরে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার রাজারহাট বাজারে আনন্দ-মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
পরে রাজারহাট চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মুসলিম উদ্দিন, রাজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হেলাল শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. একরাম তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা কামাল শিকদার, নাছির শিকদার, হানিফ তালুকদার, ডা. আবু মুছা চৌধুরী, মহিলা ইউপি সদস্য রুবি আক্তার, রাজারহাট মসজিদের খতিব হাফেজ মো. আনোয়ার, ছাত্রলীগ নেতা মো. সাকিব, আরমান, জিহাদ প্রমুখ।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার রাজারহাট বাজারে আবদুস সালাম শিকদারের নেতৃত্বে ডাকাতি সংগঠিত হয়। তৎকালীন রাজারহাট বাজার কমিটির সভাপতি মৃত আবুল কাশেম রাঙ্গুনিয়া থানায় আবদুস সালামকে প্রধান আসামি এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি ডাকাতি মামলা করেন। সে সময় আদালত আবদুস সালাম শিকদারকে যাবজ্জীবন ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ড দেন। অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে তারা বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে। পাশাপাশি আপিল বিচারাধীন রেখে জামিনে বের হয়ে যায়।
তবে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে পালিয়ে থাকা প্রধান আসামি আবদুস ছালাম ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে এসে হাইকোর্টে আপিল না করে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে রায়ের বিরুদ্ধে একটি রিট করে। হাইকোর্ট এই রিট শুনানি করে মামলাটি স্থগিত করে রুল জারি করে নিম্ন আদালত থেকে রেকর্ড তলব করেন। ২০০৭ সালে আসামিদের করা আপিলে নাজিম প্রকাশ নাছিরকে বাদ দিয়ে খোকন, এরশাদ, আলমগীর, মাসুম, এনাম, জাহাঙ্গীরের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, রাজারহাট ডাকাতি মামলায় আবদুস সালামকে এক দিনও সাজা খাটতে হয়নি বিচারিক আদালতে রেকর্ড বা ফাইল না থাকায়। তিনি এই ফাইল রেকর্ড থেকে সরিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই ফাইল উদ্ধার হলে হাইকোর্টের বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াত দ্বৈত বেঞ্চ রিটের রুল খারিজ করে আবদুস সালামের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখেন এবং তিন মাসের মধ্যে আসামিকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘আবদুস সালামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সে একাধিক হত্যা, চুরি, ডাকাতি, মারামারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আদালতের রায় হাইকোর্টে বহাল থাকায় পুরো এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সে পলাতক রয়েছে। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
রাজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হেলাল শিকদার বলেন, ‘এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীর কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকত। সে রাজারহাট বাজারটিকে জিম্মি করে রেখেছিল। ন্যায়বিচার পাওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী গোতম কুমার রায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’আবদুস সালামের করা রিটটি হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন। তিন মাসের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘