নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:২৮ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:২৯ পিএম
উদ্ধার হওয়া বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ। প্রবা ফটো
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একটি ধান ক্ষেত থেকে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মাঝারি আকৃতির রাসেল ভাইপার সাপটিকে দেখে অজগর সাপ ভেবে ৯৯৯- এ কল করে এলাকাবাসী। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা সাপটিকে উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সাপটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভেনম রিচার্স সেন্টারে পাঠায় নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ।
বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্ত ভয়ংকর বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। এর আগে রাজশাহী এবং পাবনায় কয়েকটি জেলায় দেখা মিললেও নোয়াখালীতে এবার প্রথম বারের মতো দেখা মিলল এই ভয়ঙ্কর সাপটির। হাতিয়া উপজেলা চানন্দী ইউনিয়নে সাঈদপুর গ্রামের আজাদের বাড়ির পাশে ধান খেতে অজগর সাপ ভেবে সাপটিকে ধরে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ৯৯৯- এ কল দিয়ে বিষয়টি উপকূলীয় বন বিভাগে জানানো হয়। পরে সুবর্ণচর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল থেকে সাপটি উদ্ধার করে উপকূলীয় বন বিভাগে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে সাপটি চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্স সেন্টারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়েকজন কৃষক ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। এসময় তারা সাপটি দেখতে পান। পরে সবাই মিলে সাপটিকে বস্তায় ভরে অজগরের বাচ্চা মনে করে ৯৯৯- এ কল করেন। আমি উদ্ধার করে সাপটিকে উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালী অফিসে হস্তান্তর করি।’
আবু ইউসুফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রাসেলস ভাইপার সাপটি খুবই বিষধর এবং দূর্লভ সাপ। দেশের রাজশাহী, নাটর, নওগাঁ, দিনাজপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর জেলায় এই ধরনের সাপ দেখতে পাওয়া গেলেও নোয়াখালীতে এটি দেখা যায়নি। হয়তো বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে সাপটি এখানে এসে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এটি গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের রিচার্জ সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে করে তারা রিসার্চ করে সাপে কাটার ঔষধ তৈরি করতে পারে। যারা এই সাপটি না মেরে বাঁচিয়ে রেখেছে আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি এই ধরনের বিষধর সাপ দেখতে পেলে বিশেষজ্ঞদের জানানোর পরামর্শ দিচ্ছি। সাধারণ মানুষকে সাপের কাছে না যাওয়ার অনুরোধ রইলো।