ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:১৮ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:৩৩ পিএম
কোলাজ : প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চায়ের
রাজধানী ও পর্যটন নগরী
খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয়
আসনের মধ্যে একটি হলো
কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত
মৌলভীবাজার-২ আসন।
এ আসনে রয়েছে ১৩টি
ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। জাতীয় সংসদ
নির্বাচন এলেই প্রার্থীদের ভোল
পাল্টানোর আসন হয় এটি। এ আসনে
কে কোন সমীকরণে কোন
দলের বা প্রতীকের প্রার্থী
হবেন, তা আগাম কেউ
বলতে পারেন না।
ফলে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
জেলাবাসীর দৃষ্টি থাকে এ
আসনের দিকে। সংসদ
নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে ক্ষণে ক্ষণে বদলায়
এ আসনের রঙ-রূপ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের
দল ও প্রতীক বদলই
যেন এ আসনের অন্যতম
আকর্ষণ।
মৌলভীবাজার-২ আসনের বর্তমান
সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ
মনসুর আহমদ ১৯৯১ সালে
নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী
লীগের প্রার্থী হয়ে পরাজিত, ১৯৯৬
সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত
নির্বাচনে নৌকা নিয়ে আওয়ামী
লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত, ২০০১
সালে নৌকা নিয়ে আওয়ামী
লীগের প্রার্থী হয়ে পরাজিত এবং
২০১৮ সালে ঐক্যজোটের প্রার্থী
হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের
নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
না।
সুলতান
মোহাম্মদ মনসুর আহমদ নৌকা
ও ধানের শীষ দুই
প্রতীকেই এ আসনে সংসদ
সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য
এম এম শাহীন ১৯৯৬
সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত
নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ নিয়ে
নির্বাচিত, একই বছরের ১২
জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক
নিয়ে পরাজিত, ২০০১ সালে বিএনপির
মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী
হিসেবে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচিত,
২০১৮ সালে বিকল্পধারা বাংলাদেশের
মনোনয়নে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক
নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি
তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এম এম
শাহীন বিএনপি ঘরানার নেতা
হলেও তিনি ধানের শীষ
ও নৌকাÑ দুই প্রতীক
নিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃণমূল বিএনপির
প্রতীক সোনালি আঁশ নিয়ে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মৌলভীবাজার-২ আসনের সার্বিক
ফলাফলে দেখা যায়, ১৯৯১
সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
এ আসনে লাঙ্গল নিয়ে
৬১ হাজার ১০৮ ভোট
পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী
নওয়াব আলী আব্বাস খান। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা
প্রতীকের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর
আহমেদ পেয়েছিলেন ৪৫ হাজার ৫২৬
ভোট। ১৯৯৬ সালের
১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
এ আসনে সংসদ সদস্য
নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী এম এম শাহীন।
একই বছরের ১২ জুন
অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
এ আসনে ৫২ হাজার
৫৮২ ভোট পেয়ে নৌকা
নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়
পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে নওয়াব
আলী আব্বাস খান পেয়েছিলেন
৩৯ হাজার ৯৯২ ভোট। তৃতীয় হয়েছিলেন
ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি
প্রার্থী এম এম শাহীন। তিনি পেয়েছিলেন
৩১ হাজার ৩০৪ ভোট।
২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির
মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী
হয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য
এম এম শাহীন।
তিনি নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে
৭৮ হাজার ৬৬৭ ভোট
পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকার
প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর
আহমেদ পেয়েছিলেন ৭১ হাজার ৮০৩
ভোট।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১
লাখ ৩০ হাজার ৯৪১
ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন
লাঙ্গল নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী
নওয়াব আলী আব্বাস খান। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এম শাহীন
ফুটবল নিয়ে পেয়েছিলেন ৬৪
হাজার ৯৪২ ভোট।
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে আনারস নিয়ে স্বতন্ত্র
প্রার্থী হয়ে ৩০ হাজার
৮৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত
হয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের
সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন। আর মহাজোটের
প্রার্থী মুহিবুল কাদির চৌধুরী লাঙ্গল
নিয়ে পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ২৪১
ভোট।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৭৯
হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে
নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় গণফোরামের মনোনয়নে
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর
আহমেদ। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা নিয়ে মহাজোট
মনোনীত বিকল্পধারার প্রার্থী এম এম শাহীন
পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ১৭০
ভোট।