প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:১৫ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:৩২ পিএম
স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও। সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের তোপের মুখে পড়েছেন লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষরপত্র ছিনিয়ে নেওয়া, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য সমর্থনকারী হিসেবে সই করা, এক ভোটারকে অপহরণ করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে একই আসনের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রআম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগসাজশে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওলিওর মনোনয়নপত্র বাতিলেরও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও সাংবাদিকদের বলেন, ’আমার সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষরপত্রে যারা সই করেছেন, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নামে মামলা দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। শত শত ছাত্রলীগের ছেলে আমার সঙ্গে কাজ করা কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখাচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ নভেম্বর বাছাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজুর রহমান ওলিওর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। মনোনয়নপত্র বাতিলের পরেই জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এখন আলোচনা আপিলে ফিরোজুর রহমান ওলিও মনোনয়নপত্র ফিরে পান কি না, তা নিয়ে। এ ছাড়াও আরও দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে ফিরোজুর রহমান ওলিও কমিশনে আপিল করেছেন। বুধবার বিকাল ৩টায় তার আপিলের বিষয়ে শুনানি ও সিদ্ধান্ত হবে। এদিকে রবিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলমকে প্রত্যাহারে জনপ্রশাসন সচিবকে চিঠি দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশন থেকে। ফিরোজুর রহমানের ছেলে শেখ ওমর ফারুক তার পিতার মনোনয়নপত্র বাতিলের পর কমিশনে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
ডিসি শাহগীর আলম বলেন, ‘আমি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৪-এর বিধান অনুসারে এ মনোনয়নপত্র পরীক্ষান্তে বাতিল করেছি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১২-এর দফা (৩ক) (ক)-এর বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা দাখিল করা আবশ্যক।’
তিনি বলেন, ’এক্ষেত্রে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাইকৃত ১০ জন ভোটারের মধ্য থেকে একজন ভোটার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনে স্বাক্ষরযুক্ত তালিকায় স্বাক্ষর প্রদান না করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১২-এর দফা (৩ক) (ক)-এর বিধান প্রতিপালন করা হয়নি।’
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিওর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য সমর্থনকারী হিসেবে সই করা এক ভোটারকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রার্থী। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রআম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) আবু মুসা আনসারী ওই সমর্থনকারীকে অপহরণ করেছেন। এর আগে তাকে সমর্থনকারী ভোটারের শতকরা এক ভাগ ভোটার তালিকার প্রায় আড়াইশ স্বাক্ষরপত্র ৩০ নভেম্বর ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওলিও। এ তালিকাও সংসদ সদস্যের এপিএস আবু মুসা আনসারী ছিনিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।
নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে এমন কর্মকাণ্ডকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘এই কর্মকাণ্ডের কারণে আমার সমর্থক ও নেতাকর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপিল একটা করতে হয় করলাম। এটা যে দেখে সেই বলে এটা কোনো ব্যাপারই না। বাকিটা আল্লাহ জানে। আমার একটা ইচ্ছা ছিল রবিউল ভাইয়ের (রআম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী) সঙ্গে একটা নির্বাচন করা। নির্বাচনটা তো করল না। উনি আমাদের সভাপতি, বর্তমান এমপি। নির্বাচনটা করতে পারত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’আমার জানামতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। উনি (ওলিও) তো স্বাভাবিক সেন্সে (সজ্ঞানে) থেকে কোনো কথা বলেন না। কখন কী বলেন উনিই ভালো জানেন। এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ আজ ইসিতে এ ব্যাপারে শুনানি হবে- এই তথ্য জানিয়ে এই প্রতিবেদককে সেখানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান উবায়দুল মোকতাদির।