বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:৪২ পিএম
বাজারের সরকারি জমিতে স্থাপন করা স মিল। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সরকারি জমি দখল করে স মিল স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে টিনশেডের স মিলের স্থাপনা করা হয়েছে। স মিলের জন্য কংক্রিটের ওপর লোহার অবকাঠামো এবং চারপাশে বেশ কিছু কাঠ রয়েছে।
এদিকে স মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা রাজু আহমেদ নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়, চিতলমারী উপজেলার ৮ নম্বর কুরমনি মৌজায় হাটবাজারের ফেরীপেরিভুক্ত খাসজমিতে মোহন আলী বিশ্বাস স মিলসহ (করাতকল) বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। পরে ৮ ডিসেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেদবতী মিস্ত্রী স মিলের কাজ স্থগিত করে দেন।
অভিযোগকারী রাজু আহমেদ বলেন, ‘মোহন আলী বিশ্বাস জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি জমিতে স মিল নির্মাণ করছেন। বিভিন্ন সময় এই জমিসংক্রান্ত মামলায় সে হেরে গেছে। তার সব ধরনের কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। বাজারের মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় জনস্বার্থে আমি এই অভিযোগ করেছি। আমি চাই জায়গাটি সবার কল্যাণে ব্যবহৃত হোক।’
সরকারি জমিতে স মিল নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল শেখ বলেন, ‘এই জমিতে একসময় বাঁশের হাট ছিল। কিন্তু মোহন আলী বিশ্বাস চেয়ারম্যান হওয়ার পর এই জায়গা দখল করে স মিল নির্মাণ করেন। কয়েক দিন আগে কাজ বন্ধ ছিল, আবার দেখছি মিলের কাজ শুরু করেছে।’
মোস্তাফিজুর রহমান নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘তহসিল অফিস হওয়ার আগে থেকেই এখানে বাঁশের হাট ছিল। এখন তো দখল করে স মিল বানানো হয়েছে। জায়গা খোলা থাকলে সবার উপকার হয়।’
স মিলমালিক মোহন আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জমির সব কাগজপত্র ঠিক আছে। সরকার মামলা করে একাধিকবার হেরেছে। এখন সরকারি অফিসের সামনে মিল থাকায় ইউএনও স্থানান্তর করতে বলেছে। আমি মিল বিক্রি করে দিব বলেছি। দুই মাস ধরে সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘আদালতে ও ভূমি আপিল বোর্ডে মামলা থাকার পরেও মোহন আলী বিশ্বাস ওই জমিতে স মিল নির্মাণের চেষ্টা করছিলেন। আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসমত হোসন বলেন, ‘মোহন আলী বিশ্বাসের অবকাঠামো কাজ আপাতত বন্ধ করে রাখতে বলা হয়েছে। যত দূর জানি তার করাতকলের লাইসেন্স নেই। সরকারি অফিসের কাছে কোনো অবস্থাতে করাতকল স্থাপন সম্ভব নয়। জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিষয়টি সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) দেখছেন।’
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘কোনোভাবেই সরকারি জমি কেউ জবরদখল করতে পারবে না। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’