মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:৫৫ পিএম
হোসেনপুর সরকারি কলেজে পিঠা উৎসব। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি কলেজে পিঠাপুলিতে হয়ে গেল হেমন্তের নবান্ন উৎসব। গতকাল সোমবার সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, হোসেনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম, হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোছলেহ উদ্দিন খান, আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবুল হক। অতিথিরা পিঠা উৎসবের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা ব্যাপক উৎসাহে দিনব্যাপী এ পিঠা উৎসব উপভোগ করেন। উৎসবে ১৩টি স্টলে শিক্ষার্থীরা অন্তত ৬০ পদের বাহারি পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন। এসব পিঠার মধ্যে পাটিসাপটা, দুধ চিতই, দুধ পুলি, মসলা পিঠা, জামাই পিঠা, সুজি মালপু, মাছপুলি, নারকেল পুলি, চিরুনি পিঠা, ভাজা নকশি, ধামা পিঠা, খিরসা পিঠা, রসভরা পিঠা, গোলাপ পুলি, তালের বরা, মাল ডুবা, তাকধুম পিঠা, মোল্লা পিঠা, প্রেমের নাড়ু, হাসিখুশি পিঠা উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সৃজনশীলতা গড়ে তোলার জন্য উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যক্ষ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিজেদের সংস্কৃতি ধারণ করে পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি গ্রামীণ নিজস্ব সংস্কৃতির ধারা অব্যাহত রেখে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, তবে সংস্কৃতি যেন ভুলে না যাই, সেই বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’
শিক্ষার্থী রাজিয়া আক্তার বলেন, ‘সবাই বাসা থেকে পিঠা বানিয়ে এনেছি। উৎসবে নকশি পিঠা, পুলি পিঠা, খিরসা, ভরা পিঠা, মারমা পিঠা, পাটিসাপটাসহ বাহারি পিঠা রয়েছে। কলেজে এমন উৎসব হচ্ছে এটা খুবই আনন্দের বিষয়। অনেক ভালো লাগছে।’
শরীফুল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘বন্ধুকে নিয়ে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। একসঙ্গে বাহারি পিঠার স্বাদ উপভোগ নতুন এক মাত্রা এনে দিয়েছে। পিঠা উৎসবে গ্রামবাংলার আবহ ফিরে পাচ্ছি।’
কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ থেকে আসা রাজীব সরকার বলেন, ‘বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা ওঠে তখনই যেন শীত ঋতুটি চোখে ও মনে ভেসে ওঠে। এ ধরনের পিঠা উৎসবের আয়োজন প্রতিনিয়ত করা উচিত। তবেই বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারব।’