মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:৪০ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:১৪ পিএম
কয়লা উত্তোলন শেষ হলেও নদে ডুবে আছে কার্গো জাহাজটি। প্রবা ফটো
মোংলা বন্দরের পশুর নদে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ থেকে কয়লা উত্তোলন শেষ হলেও এখন পর্যন্ত জাহাজ ওঠানো সম্ভব হয়নি। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ডুবে যাওয়া ওই জাহাজ থেকে ৫০০ টন কয়লা ওঠানো সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় জাহাজে কয়লা ছিল ৮০০ টন। গত কয়েক দিনে ৫০০ টন কয়লা উদ্ধার সম্ভব হলেও বাকি ৩০০ টন পানির সঙ্গে মিশে গেছে। এখন ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটি ওঠানোর জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে মালিকপক্ষ।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরের পর জাহাজটি টেনে তুলতে দুটি বাল্কহেড পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে জাহাজটি পশুর নদ থেকে টেনে ওঠানো সম্ভব হবে।
গত ১৭ নভেম্বর পশুর নদের চরকানা এলাকায় ৮০০ টন কয়লা নিয়ে যশোরে যাওয়ার সময় তলা ফেটে ডুবে যায় ‘এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী’ নামে কার্গো জাহাজ। মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় অবস্থান করা মার্শাল আইল্যান্ড পতাকাবাহী মার্চেন্ট শিপ ‘এমভি দুবাই নাইট’ থেকে কয়লা বোঝাই করে যশোরের নওয়াপাড়ায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে নেওয়া হচ্ছিল।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজমালিক মো. বশির হোসেন বলেন, ‘১৭ নভেম্বর তলা ফেটে ৮০০ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় জাহাজটি। ১৯ নভেম্বর থেকে প্রথমে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু করা হয়। টানা ১৭ দিনে ৫০০ টন কয়লা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে, বাকি ৩০০ টন কয়লা পানির সঙ্গে মিশে গেছে। ৫০০ টন কয়লা তুলতে ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন ডুবে যাওয়া জাহাজটি নদ থেকে টেনে তুলতে যশোরের নওয়াপাড়া থেকে দুটি বাল্কহেড আনা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে ডুবে যাওয়া জাহাজটি টেনে তোলার কাজ শুরু হবে।’
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এ দুর্ঘটনা মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের বাইরে। তাই জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি নেই। তবে কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মালিকপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে কয়লা ও জাহাজ উঠাতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু ১৫ দিনে তা সম্ভব হয়নি, তাই তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে মালিকপক্ষ ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটি উঠিয়ে ফেলবে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মো. নুর আলম শেখ বলেন, ‘কয়লা একটি বিষাক্ত ময়লা। এটি পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি হবে। এটা দায়িত্বের চরম অবহেলা হয়েছে। এটা দেখার কেউ না থাকার ফলে বারবার এই সমস্যাগুলো হচ্ছে।’