কিশোরগঞ্জ-৬ আসন
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:৫২ পিএম
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ছবি : সংগৃহীত
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিপুল পরিমাণ আয় ও সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপহার হিসেবে তিনি নিজে ২৫০ ভরি এবং স্ত্রী ২৫০ ভরি স্বর্ণ পেয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পাপনের পেশা বেসরকারি চাকরি। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ। বছরে তার বাড়ি/এপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ২১ লাখ ৩০ হাজার ২৭৫ টাকা আয় আসে। তার নগদ টাকার পরিমাণ এক কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৬ টাকা। তার স্ত্রীর নামে নগদ টাকা এক কোটি ৪ লাখ ৩২ হাজার ২০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নাজমুল হাসান পাপনের নিজের নামে ২৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং স্ত্রীর নামে এক কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টাকা জমা রয়েছে। তার ২ কোটি ৫৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ টাকার বন্ড এবং ২ কোটি ৩১ হাজার ৩০ টাকার শেয়ার এবং স্ত্রীর নামে ১২ লাখ ৫১ হাজার ৫৩২ টাকার শেয়ার রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ হিসেবে নিজ নামে মোট ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে মোট ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬ হাজার ৫৩৩ টাকা রয়েছে। উপহার হিসেবে নাজমুল হাসান পাপন নিজে ২৫০ ভরি ও স্ত্রী ২৫০ ভরি স্বর্ণ পেয়েছেন। এছাড়া জীবন বীমা হিসেবে পাপনের ৯৬ লাখ ৩ হাজার ২৩টাকা এবং স্ত্রীর ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩০ টাকা রয়েছে। পাপনের স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩২৮.৭৮ শতাংশ অকৃষি জমি যার মূল্য ৪ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৩৪৫ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। তার পাঁচটি এপার্টমেন্ট রয়েছে যার মধ্যে চারটি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ও একটি ক্রয় করা। তার স্ত্রীর নামেও একটি এপার্টমেন্ট রয়েছে।
টানা তিনবারের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে নগদ ও ব্যাংকের টাকা বেড়েছে। তাঁর নগদ টাকা বেড়েছে প্রায় ১৫ গুণ এবং ব্যাংকের টাকাও বেড়েছে কয়েকগুণ। বার্ষিক আয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের এবং ২০২৩ সালের হলফনামায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এমপি পাপন ২০১৮ সালে তার চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৪ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৩৯ টাকা দেখিয়েছেন। ২০২৩ সালের হলফনামায় চাকরি থেকে বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৯ টাকা। ২০১৮ সালে বাড়ি ভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় হতো ৭ লাখ ২৫ হাজার ২৩৫ টাকা। ৫ বছরের ব্যবধানে ২০২৩ সালে সেই আয় দেখানো হয়েছে ২১ লাখ ৩০ হাজার ২৭৫ টাকা।
২০১৮ সালের হলফনামায় ব্যাংকে ৫ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৪ টাকা ছিল। ২০২৩ সালের হলফনামায় দেখিয়েছেন ২৬ কোটি ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৯৯ টাকা। ২০১৮তে বন্ড ছিল ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৩৫ টাকা। ২০২৩ সালে আছে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ টাকার। ২০১৮ সালে নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার ৪৪১ টাকা দেখিয়েছিলেন। এবার ২০২৩ সালে দেখিয়েছেন ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৬ টাকা। ২০১৮ সালে মাত্র ৬০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদর্শন করেন। এবার ২০২৩ সালে দেখিয়েছেন ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। ২০১৮ সালে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ছিল তার। ২০২৩ সালে তার দুটি গাড়ি প্রর্দশন করেছেন। যার মূল্য ১ কোটি ৯১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৫ টাকা।
২০১৮ সালে পাপনের জীবনবীমা ছিল না। ২০২৩ সালে জীবনবীমা দেখানো হয়েছে ৯৬ লাখ ৩ হাজার ২৩ টাকা। ২০১৮ সালে অকৃষি জমি ছিল ২ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ৪৩৫ টাকা। এবার ২০২৩ সালে ৩২৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৩৪৫ টাকার।