× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘তিনডে বছর কীভাবে সংসার চালাচ্ছি তা আল্লাহ জানে’

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:৩৩ পিএম

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:০৭ পিএম

কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড। ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড। ছবি : সংগৃহীত

‘বছরে ৪ থেকে ৫ মাস মিলে কাজ কইরি যা পাতাম, তাতেই প্রায় ৯-১০ মাসের খোরাকি হয়া যাইতো। অন্য কিছু কাজ কইরে বছরের বাকি সময়টার সংসার খরচ চইলতো। ৩ বছর হতি চইল্লি মিল বন্ধ হয়া পইড়ি রইছে। এই তিনডে বছর যে কীভাবে সংসার চালাচ্ছি তা একমাত্র আল্লাহ জানে। এখন পরের ক্ষেতে কাজ করি। সে কাজও রোজ হয় না। দুইডি ছাওয়াল-মি নি খুব কষ্টে আছি। যদি আবার মিলটা চালু হইতি তাহলি খায়া পয়রি বাঁচতি পারতাম।’ উৎপাদন বন্ধ থাকা কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেডের অস্থায়ী শ্রমিক (কাজ নেই মজুরি নেই) মিজানুর রহমান এভাবেই বলেন তার কষ্টের কথা। 

কেবল মিজানুর রহমানই নন, ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া কুষ্টিয়া সুগার মিলের প্রায় ৪০০ অস্থায়ী শ্রমিকের সংসারে একই রকমের অন্ধকার নেমে এসেছে। মিলের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণার পর এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই জীবিকার জন্য নির্ভরযোগ্য কাজ খুঁজে পাননি। ফলে তাদের সংসারে দুর্দিন নেমে এসেছে।

আরেক শ্রমিক শামীম হোসেন বলেন, ‘মিলের ওপর পরিবার নির্ভর ছিল। সেখানকার আয় দিয়েই সংসার চলত। কাজ হারানোর পর গত তিন বছরে তেমন ভালো কোনো কাজ খুঁজে পাইনি। পরিবারের সদস্যদের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’ 

অস্থায়ী শ্রমিক রতন আলী বলেন, ‘মিল কর্তৃপক্ষ একবারের জন্য তাদের কথা ভাবেনি। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।’ তিনি পুনরায় মিলটি চালুর দাবি জানান।

এই অস্থায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি গেল তিন বছর আগে অবসরে যাওয়া ২০০ জন স্থায়ী ও মৌসুমি শ্রমিকরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অবসরে গেলেও মিল কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। মেশিন হেলপার হিসেবে ২০২০ সালে অবসরে যান মিলের স্থায়ী শ্রমিক মুক্তার আলী। নিয়মানুযায়ী অবসরে যাওয়ার সময় প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) গ্রাচুইটি বাবদ সব পাওয়া বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু তিন বছরেও মিলের কাছে পাওনা ৮ লাখ টাকা পাননি। তিনি বলেন, ‘মিল কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা চাইতে গেলে আজ-কাল বলে শুধু ঘোরাচ্ছে। টাকা হলে ছোটখাটো ব্যবসা শুরুর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও মিল কর্তৃপক্ষ পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। বৃদ্ধ বয়সে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

মুক্তারের মতো একই অবস্থা মিলের অপর মেশিনম্যান কিয়ামত আলীর। তিনি অবসরে গেছেন ২০২১ সালের দিকে। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘রক্ত ঘামানো পয়সা একটু একটু করে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম অবসরে যে টাকা পাব তা দিয়ে বাজারে একটি মুদি দোকান করব। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। আমরা তো ভিক্ষা চাইছি না, পাওনা টাকা কেন দিচ্ছে না।’

শহরের অদূরে জগতি এলাকায় ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়া সুগার মিলস্ লিমিটেড। মিলে সব মিলিয়ে মোট জমি রয়েছে প্রায় ২২২ একর। বিপুল লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এ মিলের প্রায় ৯০০ স্থায়ী ও মৌসুমি শ্রমিক এবং কর্মচারী-কর্মকর্তার মধ্যে ৫০০ জনকে উৎপাদনে থাকা সুগার মিলগুলোতে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যরা পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন। মিলে ২০০ স্থায়ী ও মৌসুমি শ্রমিকদের বর্তমানে মোট পাওনা ২৫ কোটি ৬ লাখ টাকা বলে মিল সূত্রে জানা গেছে। এ পাওনা শ্রমিকরা কবে বুঝে পাবেন, তা কেউ জানে না। এসব শ্রমিকের কষ্টের শেষ নেই। 

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মিলের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত বছর ঝড়ে মিলের টিনের চালার বড় একটি অংশ উড়ে গেছে। টাকার অভাবে সেটি আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি মিলের যন্ত্রাংশের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে মিলের বিভিন্ন আবাসিক ভবনের দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে। অযত্ন অবহেলায় ধসে পড়েছে বেশকিছু ভবনের ছাদ। মিলের বেশকিছু জমি চাষের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও মূল স্থাপনা ও আবাসিক এলাকাগুলো ঝোপ-ঝাড়ে ছেয়ে গেছে। রাত নামলে এসব জায়গায় নেশাগ্রস্তরা আসর বসায়। 

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া সুগার মিলের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মিলের চাকা সচল হবে কি নাÑ তা জানা নেই। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই বলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। মিল ভবনসহ আশপাশের জায়গাগুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা