× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে দোটানায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা

আব্দুল ওয়াদুদ, বিয়ানীবাজার (সিলেট)

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৪৭ পিএম

ডান দিক থেকে নুরুল ইসলাম নাহিদ, সরওয়ার হোসেন। প্রবা ফটো

ডান দিক থেকে নুরুল ইসলাম নাহিদ, সরওয়ার হোসেন। প্রবা ফটো

সিলেট-১ আসনের পর মর্যাদাপূর্ণ আসন হচ্ছে সিলেট-৬। প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের বাসিন্দাদের চিন্তাভাবনা, চাহিদা ও পছন্দ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের চেয়ে ব্যতিক্রম। এখানকার রাজনীতিতেও রয়েছে প্রবাসীদের প্রভাব। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি।

এ ছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, স্বতন্ত্র হিসেবে কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরওয়ার হোসেন, তৃণমূল বিএনপির সভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছাদিকুর রহমান।

তারা সবাই ‘প্রভাবশালী’ প্রার্থী বলে জানান ভোটাররা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেন। নেতাকর্মীদের আশঙ্কা তার কারণেই নৌকার পরাজয় হতে পারে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পড়েছেন দোটানায়।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তমবারের মতো এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এর মধ্যে পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সরওয়ার হোসেন। দলীয়ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে উৎসাহ দেওয়ায় এ আসনে নৌকার বিজয় নিয়ে চিন্তিত নেতাকর্মীরা। তাদের কথাবার্তায় প্রকাশ পাচ্ছে শঙ্কা ও দোটানা ভাব। দলীয় মনোনয়নপত্র পাওয়া ও জমার আগে নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল, তা এখন থমকে গেছে। সবার মনে একটাই প্রশ্নÑ দল থেকে একজনকে মনোনয়ন দিয়ে আবার দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কেন উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

নেতাকর্মীরা মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত দলের জন্য ক্ষতিকর। গত ৬ ডিসেম্বর বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় উপস্থিত অনেক দায়িত্বশীল নেতা দলের এমন সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী ও অদূরদর্শী বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, দলের এই সিদ্ধান্তের কারণে অনেক আসনে নৌকার ভরাডুবি হবে এবং দলে স্থায়ী অনৈক্য দেখা দেবে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিয়ানীবাজারের একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে উৎসাহ প্রদান ও বহিষ্কার না করার ঘোষণায় মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের দল ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য নষ্ট হচ্ছে। আমরা কর্মীদের বাধা দিলে তারা বলেন, দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন করতে বলেছেন, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গেলে সমস্যা কী? আমরা তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না।’ 

বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান খান বলেন, ‘দলের প্রতীক নৌকা। সুতরাং নৌকা যে পেয়েছেন আওয়ামী লীগ তার পক্ষেই থাকবে। নেত্রী কী বলেছেন তা আমরাও শুনেছি, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন করার কথা বলেছেন। তার মানে এই নয় যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে।’

সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বলেন, ‘নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনিই দলের প্রার্থী। এর বাইরে গিয়ে যে নির্বাচন করবেন তিনি স্বতন্ত্র। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা। সুতরাং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও নৌকার বিজয় নিশ্চিৎ করতে কাজ করতে হবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে নির্বাচন করার জন্য মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি, এলাকার মানুষ আমাকে চায়। নেত্রীও বলেছেন এবারের নির্বাচন হবে উন্মুক্ত। তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, এলাকার উন্নয়ন করতে চাই।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, ‘বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের জনগণ চেয়েছেন বলেই নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এজন্য এলাকার জনগণ, মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ডের কাছে কৃতজ্ঞ। সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও ভোট প্রার্থনা করছি। দেশের মঙ্গলের জন্য শেখ হাসিনার আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়া দরকার। তাই শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার জয় নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি।’

সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর কাদির শফি চৌধুরী এলিম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া হোসেন পাপলু, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আফসার খান সাদেক ও সিলেট মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গিরদার। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও সরওয়ার হোসেন ছাড়া কেউই স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা