× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ২৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

মধ্যাঞ্চল প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৫৮ এএম

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:২২ এএম

পাগলা মসজিদের বাক্সে পাওয়া টাকা গণনার কাজ চলছে। প্রবা ফটো

পাগলা মসজিদের বাক্সে পাওয়া টাকা গণনার কাজ চলছে। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ২৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন চলছে গণনা। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদের নয়টি দানসিন্দুক খোলা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহুয়া মমতাজ ও সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিন্দুক খোলা কমিটির সদস্যরা।

এবার তিন মাস ২০ দিন পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পরপর এ দানবাক্স খোলা হয়। এবার টাকা ছাড়াও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। রেকর্ড ৬ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে কমিটির সদস্যরা মনে করছেন।

প্রশাসনের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে নয়টি দানবাক্স খুলে ২৩টি বস্তায় টাকা ভরে গণনাস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বস্তা থেকে টাকা ফ্লোরে ঢেলে গণনা শুরু হয়।

এর আগে ১৯ আগস্ট খোলা হয়েছিল মসজিদের আটটি দানবাক্স। তখন রেকর্ড ২৩ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ১৪ ঘণ্টায় ২০০ জন গণনা শেষে রেকর্ড ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া একটি ডায়মন্ডের নাকফুলসহ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া যায়।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আটটি দানবাক্স থাকলেও টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার একটি দানবাক্স বাড়ানো হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যাংকের অর্ধশত স্টাফ, মসজিদ কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মিলে প্রায় আড়াইশ লোক টাকা গণনা করছেন।

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ছয় তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য একটি মেগা প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অর্ধলাখ মুসল্লি যাতে একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন, এ রকম একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একসঙ্গে ২২ হাজার মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে। ৫ হাজার নারীর জন্য আলাদাভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। ইতোমধ্যে এর দরপত্র ডাকা হয়েছে। ১২টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছে। এ নির্মাণে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। কাজ শুরু হলে এর পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নির্মাণ ব্যয়ের অর্ধেকের মতো টাকা আছে। পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগীকে আর্থিক সহযোগিতা, নানা মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এ ছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবীকেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ‘সকাল থেকে টাকার সিন্দুক খোলা, বস্তায় ভরে এনে গণনা শেষে ব্যাংকে সমস্ত টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তা ছাড়া প্রতিদিন রাতদিন পুলিশ প্রহরা থাকে।‘

জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে এ মসজিদটির অবস্থান। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানসিন্দুকগুলোয় টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালংকার, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন।

পাগলা মসজিদ শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্যও। মসজিদ কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবন।

দানবাক্স খোলার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া, মসজিদ কমিটির সদস্য আনোয়ার কামাল, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা