মাহাবুবুর রহমান, ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:১৭ এএম
সরিয়ে নেওয়া ট্রেনগুলো পাকশীর রূপপুর স্টেশনে রাখা হয়েছে। প্রবা ফটো
চলমান হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে বারবার নাশকতার ঘটনা ঘটছে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে। পুনরায় নাশকতার আশঙ্কায় সব বগি সরিয়ে রাখা হয়েছে। এতে চিরচেনা ব্যস্ততম জংশন রেল ইয়ার্ডের কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে শূন্যতা। মালগুদাম এলাকায় পণ্য ওঠা-নামার ব্যস্ততা নেই। তবে তেলবাহী ট্রেন এবং ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের কিছু চলমান ওয়াগন দেখা গেছে।
ব্রিটিশ আমল থেকে রেল ইয়ার্ডের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত যাত্রীবাহী এবং মালবাহী ট্রেনের বগিতে পরিপূর্ণ থাকত। শতাধিক ট্রেনের বগির অবস্থান সবসময়ই থাকত ঈশ্বরদী রেল ইয়ার্ডে। ট্রেনে অতিরিক্ত বগির প্রয়োজন হলে, বগি রিজার্ভ এবং বিশেষ ট্রেনের প্রয়োজন হলে ঈশ্বরদী থেকেই সংযোজন করা হয়ে থাকে। যে কারণে বিশাল ইয়ার্ড সবসময় বগিতে পরিপূর্ণ থাকত।
সরকারবিরোধী পক্ষগুলোর হরতাল-অবরোধ কার্যকর করতে মৈত্রী এক্সপ্রেসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, ট্রেনের নিচে থেকে বোমা উদ্ধার এবং রেললাইনের ওপর আগুন দেওয়া হয় সম্প্রতি। সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্টেশনের ওয়াশফিটে দাঁড় করিয়ে রাখা ট্রেনের বগিতে আগুন দেওয়া হলে ১১টি সিট পুড়ে যায়। স্টেশনের সুপারিনটেন্ড্যান্ট মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজন এবং মালামাল লোড-আনলোড করা ছাড়া ইয়ার্ডে কোনো বগি রাখা হবে না।’
সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য নতুন রূপপুর স্টেশনে রাখা হয়েছে বগিগুলো এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে। সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা গেছে, জংশন রেল ইয়ার্ডের উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম লাইনগুলো ফাঁকা। অপরদিকে রূপপুর স্টেশনে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী ও মালবাহী বগি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে প্রবেশের সব পথই বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যারিকেড ডিঙ্গিয়ে স্টেশন এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে হুইসেল বাজিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের সুদীর্ঘ ইয়ার্ডে চারপাশের কোথাও সীমানা প্রাচীর না থাকায় বারবার নাশকতা হচ্ছে। তাই প্রাচীর দিয়ে ঘেরা নতুন রূপপুর স্টেশনে ট্রেনের বগিগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং সেখানে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তবে ট্রেনগুলো আবার ঈশ্বরদী রেল ইয়ার্ডে আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘জংশন স্টেশনের চারপাশে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগির আবার ট্রেনগুলো ঈশ্বরদী রেল ইয়ার্ডে আনা হবে।’