× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নতুন রূপ পাবে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র

মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৩৮ এএম

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৫১ এএম

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটা। প্রবা ফটো

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটা। প্রবা ফটো

নারীমুক্তি ও জাগরণের আলোর দিশারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। ১৯৯৭ সালে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটায় স্থাপিত হয় একটি স্মৃতিকেন্দ্র। কিন্তু সংস্কার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে স্মৃতিকেন্দ্রটির অবস্থা ছিল শোচনীয়। 

অবশেষে পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি নতুন করে গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে স্মৃতিকেন্দ্রের চেহারা। স্মৃতিকেন্দ্রটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে বাংলা একাডেমি। 

একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে স্মৃতিকেন্দ্রটি ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। থাকবে আন্তর্জাতিক গবেষণাকেন্দ্র। এ গবেষণাকেন্দ্রে মূলত নারীরাই প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া থাকবে সংগ্রহশালা, গ্রন্থাগার, হেলথ সেন্টার, মুক্তমঞ্চসহ বেশকিছু অবকাঠামো। পাশাপাশি ধাত্রী, হস্তশিল্পসহ বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

১৯৯৭ সালে ৩ একর ২৫ শতক জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় স্মৃতিকেন্দ্রটি। ওই সময় একটি অফিস ভবন, গেস্ট হাউস, মিলনায়তন, ডরমিটরি, গবেষণাকক্ষ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়। স্মৃতিকেন্দ্রের পুকুরপাড়ে তৈরি করা হয় বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য। বর্তমানে গ্রন্থাগার থাকলেও সেখানে যুগোপযোগী বই ও সাময়িকী নেই। মিলনায়তনের অবস্থাও ভালো না। মঞ্চ ভেঙে গেছে অনেক আগেই, অধিকাংশ চেয়ারই ভগ্ন। নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকলেও বেশিরভাগ মেশিন নষ্ট। সংগ্রহশালায়ও নেই উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু। 

দীর্ঘদিন বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিল দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ও সংস্কৃতিকর্মীরা। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্মৃতিকেন্দ্রটি নতুন আঙ্গিকে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাংলা একাডেমি।

বাংলা একাডেমিকর মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক কেএম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা। স্থাপত্য অধিদপ্তর স্মৃতিকেন্দ্রের নকশা প্রণয়ন করবে। 

রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল জানান, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্মৃতিকেন্দ্রটি বিকেএমই গার্মেন্টস প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়। এরপর দখলমুক্ত করে রোকেয়া চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার দাবি থাকলেও বাস্তবে তেমন কিছু হয়নি। বাংলা একাডেমি নতুন করে এ বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানি। দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করলে বেগম রোকেয়ার স্মৃতিধন্য প্রাঙ্গণটি গবেষণা, রোকেয়াচর্চা, সর্বোপরি নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পাথেয় হবে বলে মনে করি। 

১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন, অর্ধাঙ্গী, মতিচূর-এর স্রষ্টা। তার কর্মময় জীবনকে স্মরণ করতে ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। এছাড়া এদিনে নিজ ভিটায় সরকারিভাবে মিলাদ মাহফিল, আলোচনাসভা, গুণিজন সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা