হলফনামা বিশ্লেষণ
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৬ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:১০ পিএম
তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরীর আয় ও সম্পদ গত পাঁচ বছরে দুটোই কমেছে। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায়’ বার্ষিক আয় কমেছে তার। পাশাপাশি তার সম্পদও কমেছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ও এবারের নির্বাচনে শমসের মবিনের দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, শমসের মবিনের বার্ষিক আয় ৫ বছরে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা থেকে ৮ লাখ টাকায় নেমেছে।
শমসের মবিন ২০১৮ সালে হলফনামায় তার বার্ষিক আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছিলেন প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা। এবার তা দেখিয়েছেন ৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। এবারের আয়ের পুরোটাই তিনি ‘শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত’ থেকে পান বলে জানিয়েছেন। আয় কমার কারণ হলো ২০১৮ সালের মতো এবার তার ব্যাংক ডিপোজিট ও সেভিং সার্টিফিকেট মুনাফা এবং পেশাগত আয় নেই।
হলফনামা অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ কমেছে। এবার তিনি তার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তিনি অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছিলেন প্রায় ৪ কোটি টাকা। তবে ২০১৮ সালের মতো এবারও তার স্থাবর সম্পদ এবং দেনা নেই। এবার তিনি পেশার ঘরে ‘অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা’ লিখছেন। ২০১৮ সালে তা লিখেছিলেন ‘বেসরকারি চাকরিজীবী’।
এবার মামলার তথ্যের স্থানে প্রযোজ্য নয় উল্লেখ করলেও ২০২৮ সালের হলফনামায় তিনটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
শমসের মবিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্র্রবিষয়ক উপদেষ্টা হন। পরে গত নির্বাচনে বিকল্পধারার মনোনয়নে সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী হন। যদিও পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সম্প্রতি তিনি ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
আয় কমার বিষয়ে জানতে চাইলে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর পেনশনের সঞ্চয়পত্র করেছিলাম। এখন সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় আয় কমেছে। এ ছাড়া আমার বিকল্প কোনো আয়ও নেই। তাই আয় কমেছে।’
মামলার বিষয়ে শমসের মবিনের দাবি, সবকটি মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ায় পুরোনো মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি।