ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
আবদুল্লাহ আল মামুন, ফেনী
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:৪৯ পিএম
দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ৩১ কিলোমিটার অংশে নির্মাণ করা হয়েছে ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ। নির্বিঘ্নে পথচারীদের পারাপারের জন্য এসব ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও কোনো কাজে আসছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে পথচারীরা। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
ফেনী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর ফেনী সদরের মোহাম্মদ আলী, ফতেহপুর, মহিপাল, লালপুল, ফাজিলপুর ও মুহুরীগঞ্জে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা। ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ব্রিজ রাস্তা পারাপারে ব্যবহার করেছে না পথচারীরা।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জানমালের ক্ষতি হয়। গত এক বছরে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০ জনের অধিক। আহত হয়েছে শতাধিক।
মুহুরীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচলের পথ যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন মানুষ বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবে। তা না হলে ওভারব্রিজ কেউ ব্যবহার করবে না।’
সিদ্দিকুর রহমান নামে এক পথচারী জানান, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে কষ্ট হয়Ñ এই অজুহাতে কেউ এসব ব্রিজ ব্যবহার করে না। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে রাস্তা পার হয়। তার দাবি সড়ক বিভাজকে ব্যারিয়ার করে দিলে ফুটওভার ব্রিজগুলো ব্যবহার হবে।
মহসিন আলম নামে ফাজিলপুরের এক পথচারী বলেন, ‘নিচ দিয়ে হেঁটে এ রাস্তা পারাপারে অভ্যস্ত, ওপর দিয়ে রাস্তা পার হতে ইচ্ছে করে না।’
কলেজশিক্ষক ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘পথচারীদের সচেতনতার অভাবে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনা ঘটে। ফুটওভার ব্রিজের নিচের সড়কের ডিভাইডারে ব্যারিয়ার স্থাপন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’
মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের সচেতন করে আসছি। দুর্ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছি।’
জানতে চাইলে ফেনী সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল বলেন, ‘মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফেনী অংশে ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় কোনো কাজে আসছে না। ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সড়কের বিভাজনে ব্যারিয়ার স্থাপনের চিন্তাভাবনা রয়েছে।’