বরিশাল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০১ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:২৯ পিএম
পঙ্কজ নাথ, শাম্মী আহম্মেদ, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. শাম্মী আহম্মেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে বাতিল হয়েছে ১০ জনের মনোনয়নপত্র। তবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৪৫ জনের। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে এ তথ্য জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘ড. শাম্মী আহম্মেদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’
এ ছাড়া বরিশাল-৪ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী আসাদুজ্জামানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তার দল এই আসনে তার মনোনয়ন বাতিল করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শাম্মী আহম্মেদের বড় ভাই ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন আহম্মেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা এ সিদ্বান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।’
বরিশাল-৪ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথ, জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু।
বরিশাল-১ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, জাতীয় পার্টির ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী ও এনপিপির মো. তুহিনের। মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে জাকের পার্টির মোহাম্মদ রিয়াজ মোরশেদ জামানের।
এ বিষয়ে রিটানিং কর্মকর্তা বলেন, ‘হলফনামায় সঠিক তথ্য না দেওয়া ও তার দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় বরিশাল-১ আসনে জাকের পার্টির মোহাম্মদ রিয়াজ মোরশেদ জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’
বরিশাল-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাশেদ খান মেনন ও একই দলের মো. জহুরুল ইসলাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নকুল কুমার বিশ্বাস, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন বিএসসি ও রনজিত কুমার বাড়ৈ, জাকের পার্টির স্বপন মৃধা, তৃণমূল বিএনপির মো. শাহজাহান সিরাজ, এনপিপির সাহেব আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী একে ফাইয়াজুল হক ও মো. মনিরুল ইসলামের। এই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মিরাজ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) ব্যারিস্টার আলবার্ট বাড়ৈর।
জেলা প্রশাসাক বলেন, ‘ঋণ খেলাপি হওয়ায় বরিশাল-২ আসনের বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মোহাম্মদ মিরাজ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) ব্যারিস্টার আলবার্ট বাড়ৈর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আলবার্ট বাড়ৈর দলীয় মনোনয়ন ফরম পূরণ সঠিকভাবে না করা ও ৩০০ টাকা কোর্ট ফি না থাকায় বাতিল করা হয়েছে।’
বরিশাল-৩ আসনে মনোনয়ন ফরম বৈধ হয়েছে- আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরদার মো. খালেদ হোসেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাশেদ খান মেনন ও একই দলের টিপু সুলতান, জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আজমুল হাসান জিহাদ, তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেন, জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল হক ও মো. আতিকুর রহমান। এ আসনে কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি।
বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে- আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস, জাকের পার্টির মো. আবুল হোসাইন, এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও মো.সালাহউদ্দিন রিপনের।
বরিশাল-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শতকরা এক ভাগ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহরিয়ার মিঞা, নুরে আলম শিকদারের। ঋণ খেলাপী থাকায় বাতিল হয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সামসুল ইসলাম চুন্নু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির খান সাগরের মনোনয়ন ফরম। অন্যদিকে জাকের পার্টির হুমায়ন কবিরের মনোনয়নপত্র দল বাতিল করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে- আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল হাফিজ মল্লিক, জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রত্মা, তৃণমূল বিএনপির টিএম হজিরুল হক তুহিন, এনপিপির মো. মোশারফ হোসেন, জাসদের মোহম্মদ মোহসীন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মাইনুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজিব আহম্মদ তালুকদার, মো. শাহবাজ মিঞা, মো. কামরুল ইসলাম খান, খান আলতাফ হোসেন ভুলুর।