কিশোরগঞ্জ
সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:০৯ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:১৮ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের মোট ৬টি আসনের ৪টিতেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। আসনগুলো হচ্ছেÑ কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৫। আসন তিনটিতে আওয়ামী লীগ থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন একাধিক নেতা। যাদের অনেকেরই দলে রয়েছে নিজস্ব বলয়। এর ফলে নিশ্চিভাবেই বিভাজন দেখা দেবে ভোটের সমীকরণে।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর)
আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বর্তমান এমপি নৌকার প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। একই পরিবার থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন লিপির বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সাফায়েতুল ইসলাম এবং তার চাচাতো ভাই জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু। স্বতন্ত্র প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন আরেক প্রভাবশালী নেতা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী।
দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র এই তিন প্রার্থী প্রত্যেকেই প্রভাবশালী। যারা ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকলে নিশ্চিতভাবে যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে সৈয়দ পরিবার থেকে দুজন প্রার্থী হওয়ায় বেশ বড় ধরনের বিপাকে পড়তে হবে বর্তমান এমপি লিপিকে। আসনের বাইরেও পুরো জেলায় এই পরিবারের রয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। এছাড়া মাঠে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা আশফাকুল ইসলাম টিটুর তৃণমূলে রয়েছে অগণিত অনুসারী।
কর্ষাকড়িয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহীদ ভূঁইয়া বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের একমাত্র নেতা যার সাথে তৃণমূল কর্মী ও ভোটারদের যোগসূত্র রয়েছে। তিনি স্বতন্ত হলেও তার ভোটবাক্সে কেউ হাত দিতে পারবে না। সুতরাং এবারের ভোট যেহেতু বিভাজিত ভোট। সে হিসেবে তিনি জয়ী হবেন বলে মনে করেন।
অপরদিকে নির্বাচনের আগে থেকে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে পেরেছেন নজরুল ইসলামের আরেক সন্তান সাফায়েতুল ইসলাম। তিনি স্বাস্থ্য খাতসহ বেশকিছু কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সাধারণ মানুষের প্রশংসা পেয়েছেন। নির্বাচনের মাঠে তার প্রস্তাব সমর্থন জানিয়ে ভোটাররা এগিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা অধ্যক্ষ শরীফ সাদীর প্রার্থিতাও বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে লিপির অনুসারীদের। কারণ সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদী দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও পেশাজীবীদের সঙ্গেও রয়েছে বেশ ভালো সম্পর্ক।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া)
এই আসনে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন পুলিশের সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলাসহ একাধিক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাহহার আকন্দ। মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন বর্তমান এমপি সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ। তবে তিনি ভোটযুদ্ধে না নামলেও আবদুল কাহহার আকন্দকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন নৌকারই সাবেক সংসদ সদস্য ও পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন।
ভোটাররা জানান, সোহরাব উদ্দিন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি থাকায় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেন। যার বড় ধরনের রেশ পড়তে পারে এবারের ভোটের সমীকরণে। এছাড়া পাকুন্দিয়ায় নিজের বাড়ি হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতির অঞ্চলভিত্তিক ভোটব্যাংকও তার পক্ষে থাকতে পারে। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব হওয়ায় পাকুন্দিয়ার ১০টি ইউনিয়নেই রয়েছে তার অনুসারী। বিগত ৫ বছরে তুলনামূলক উন্নয়নকাজ কম হওয়ায় এক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেবে সোহরাবকে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল কাহহার আকন্দের মাঠের রাজনীতিতে তেমন পরিচিতি না থাকায় নৌকাকে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।
পাকুন্দিয়া উপজেলা এগারসিন্দুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম বলেন, সোহরাব উদ্দিন পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে তার অগণিত অনুসারী রয়েছে। তাই নির্বাচনে এবার ভোটারা তাকেই বেছে নেবে।
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী)
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত পাল। বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে দলের একাংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করায় আফজালের ফের সংসদ সদস্য হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখছেন তার অনুসারীরা।
বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ একেএম নূরুনব্বী জানান, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে এমপি আফজালকে সাধারণ মানুষ আর সহ্য করতে পারছে না। তাই বিকল্প হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সুব্রত পালকেই ভোটাররা ভোট দেবেন বলে তার বিশ্বাস।
নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান বলেন, এখনই এসব বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার পর বলা যাবে কোন আসনের অবস্থা কেমন। তবে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।