মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:২৭ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:৩৫ পিএম
টানা তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জামানত হারানো আব্দুল আলী বেপারি এবার মানিকগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে রবিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মানিকগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার তার প্রার্থিতা বাতিল করেন।
এ খবর শুনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আলী।
এ সময় তিনি নিজেকে শেষ করারও হুমকি দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে তাকে সান্ত্বনা দেয় এবং প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের পরার্মশ দেয়।
জানা যায়, মানিকগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আলী বেপারি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বেড়াডাংগা এলাকার কিয়ামুদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক। কৃষিকাজের মাধ্যমে বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তার কাছে নগদ ২ লাখ টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। আব্দুল আলী বেপারির শিক্ষাগত সার্টিফিকেট না থাকলেও তিনি স্বশিক্ষিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আলী ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালে ঘিওর উপজেলার সিংজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন এবং জামানত হারান। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে আব্দুল আলী বলেন, ‘আমি এখন আমার ভোটারদের মুখ দেখাব কেমনে, আমি আর বাঁচুম না। আমি আমার মার্কায় ভোট দিতে না পারলে মরুম, আমার জীবন রাখুম না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভোট আমাকে দিয়ে যেন মরতে পারি। আমার বিশ্বাস আছে, মানুষ আমাকে ভোট দেবে। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাব। চক্রান্তের মাধ্যমে আমার নমিনেশন বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি এই চক্রান্ত বিশ্বাস করি না। আমাকে আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।’