ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:৫১ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২১ পিএম
বাবুল আহমেদ (বামে) ও আবুল মুনসুর (ডানে)। প্রবা ফটো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৭ আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এক ভিক্ষুক ও এক মোটরসাইকেল মেকানিক।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) ত্রিশালের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল আহমেদের কার্যালয়ে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তারা হলেন—ভিক্ষুক আবুল মুনসুর ও মোটরসাইকেল মেকানিক বাবুল আহমেদ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার জুয়েল আহমেদ আবুল মুনসুর ও বাবুল আহমেদ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবুল মুনসুর বলেন, ’আমি ত্রিশালের বইলর ইউনিয়নের মঠবাড়ী এলাকার মরহুম চান মিয়ার ছেলে। আমি রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। এখন আমার বয়স হয়েছে ৭০ বছর। শরীর দুর্বল হয়ে আসছে, তাই ভিক্ষা করে সংসার চালাই। অনেক দিন ধরেই নির্বাচনের চিন্তা করে আমি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছি। সাধারণ ভোটাররা আমাকে সমর্থন দিয়েছে, তাই আমি স্বতন্ত্র এমপি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ’ত্রিশাল থেকে যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গরিবদের খোঁজখবর রাখেন না। যদি এমপি নির্বাচিত হই তাহলে গরিবদের পাশে থেকে তাদের কাজ করে দেব।’
বাবুল আহমেদ বলেন, ’আমি উপজেলার ত্রিশাল রামপুর ইউনিয়নের কাকচর দরিল্লাহ গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। আমি গরিব তাই গরিবের কষ্ট বুঝি। তাই আমি এমপি হয়ে গরিবের সেবা করতে চাই। আমি অনেক দিন ধরেই মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। আমি স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হয়েছি। জনগণ আমাকে কথা দিয়েছে তারা আমাকে ভোট দিয়ে স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত করবে। তাদের সমর্থনে আজ আমি স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হয়েছি।’
তিনি বলেন, ’এমপি নির্বাচিত হলে অসহায় দুস্থ মানুষের পাশে থেকে সব সমস্যা সমাধান করব। মুক্তিযোদ্ধাদের সব সুবিধা, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার উন্নয়নে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার উন্নয়নসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখব ইনশাআল্লাহ।’
ফকির আবুল মুনসুর ও মোটরসাইকেল মেকানিক বাবুল আহমেদ স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। তাদের নিয়েই চলছে চায়ের স্টলে আলোচনা।
ফকির আবুল মুনসুর গত ইউপি নির্বাচনে বইলর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৩৭৭ ভোট পেয়েছিলেন।
এই আসনের বর্তমান এমপি আলহাজ হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানীর ১৯৯৬ সালের পুরোনো মাইক্রোবাস কিনে এক বছর ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন মোটরসাইকেল মেকানিক বাবুল আহমেদ। এমপির পুরোনো গাড়িতে সুভাগ্য খুলবে বলে সে আশাবাদী। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দরিরামপুর এলাকায় বাবুল মোটরস তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে কাজ করেই চলে তার সংসার।
স্থানীয়রা জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রত্যেক এমপি প্রার্থী বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে। সেখানে অসহায় ভিক্ষুক ও মোটরসাইকেল মেকানিক প্রার্থীর কোনো টাকা খরচ করার সামর্থ্য নেই। ভিক্ষুক আবুল মুনসুর গত ইউপি নির্বাচন করে টাকা খরচ ছাড়াই পেয়েছিল ৩৭৭ ভোট। অংশগ্রহণকারী আরও কয়েকজন প্রার্থী টাকা খরচ করে তার চেয়ে কম ভোট পেয়েছিল। নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটি একটি নীরব প্রতিবাদ।