সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ১৭:৫৩ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ১৮:০৬ পিএম
খানাখন্দে ভরা প্রধান সড়ক। ছবি : প্রবা
সংস্কারের অভাবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার প্রধান সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কটির মোগরাপাড়া চৌরাস্তা হতে বৈদ্যের বাজার ঘাট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার অংশের বিটুমিন ও খোয়া উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পথচারী ও গাড়ির যাত্রীদের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।
প্রায় তিন বছর ধরে এ অবস্থা চলতে থাকার পর গত বছর সড়কটিতে সংস্কার করে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। প্রতিনিয়ত প্রায় এক লাখ মানুষের চলাচলের এ সড়কটি পরে আর মেরামত না করায় অনেক স্থানে বিটুমিন ও ইট-পাথর উঠে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সড়কটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ঘটনায় পড়ে সাধারণ যাত্রীরা অনেকেই আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রধান সড়কে সোনারগাঁ থানা, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সোনারগাঁ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, স্কুল-কলেজসহ সোনারগাঁ উপজেলার একাংশ, মেঘনা উপজেলার একাংশ ও আড়াউহাজার উপজেলার একাংশের প্রায় এক লাখ মানুষের প্রতিনিয়ত চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। আর এই প্রধান সড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে বৈদ্যের বাজার ঘাট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের অসংখ্য স্থানে কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। আর বৃষ্টি হলেই ছোট-বড় খানাখন্দ হয়ে ওঠে মৃত্যুকূপ। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইঞ্জিনচালিত যানবাহন, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।

এ সময় অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, রাস্তায় অনেক খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার দুজন যাত্রী নিয়ে আমার অটোরিকশাটি গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে যাত্রীরা আহত হয়। আমার ডান পা খানিকটা কেটে যায়। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।
অটোরিকশাচালক আরও বলেন, এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে সুস্থ-সবল মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। অনেক সময় রিকশায় করে এই রাস্তা দিয়ে রোগী নিয়ে গেলে তাদের অবস্থা আরও কাহিল হয়ে পড়ে।
সিএনজিচালক হারুনুর রশিদ বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তায় সিএনজি চালাতে গিয়ে প্রায়ই নাটবল্টু খুলে পড়ে যায়। ফলে সারা দিন সিএনজি চালিয়ে যা কামাই করি, তার একটা অংশ মেরামত করতে শেষ হয়ে যায়। ২০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে ৪০-৪৫ মিনিট। এ ছাড়া যানজট তো আছেই।
পিকআপ চালক হোসাইন বলেন, এ সড়কটি দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। গাড়ির বিভিন্ন ধরনের পার্টস নষ্ট হয়ে যায় এবং তা মেরামতে অনেক খরচ গুনতে হয়। সড়কটি সংস্কার করা খুব জরুরি।
সড়কের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) শাহানা ফেরদৌস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নতুন প্রকল্পের আওতায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ কার্পেটিং করার জন্য নতুন প্রকল্পে সড়কটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রবা/রাই/জেআই