বেনাপোল বন্দর
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:৩৯ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০০ পিএম
বেনাপোল স্থলবন্দর, যশোর। ছবি : সংগৃহীত
মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে ‘আতাফল’ আমদানির বদলে মূল্যবান পারসিমন ফলের একটি চালান আটক করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে চালানটি ভারত থেকে আমদানি হয়ে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে রাখা হয়। পরে পণ্যের চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে শুক্রবার ( ১ ডিসেম্বর) সকালে আতাফলের চালানে পারসিমন ফল দেখতে পান কাস্টমস কর্মকর্তরা। পরে অভিযুক্ত আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে মামলা ও জরিমানা করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, প্রভা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২৭০০ কেজি আতাফল আমদানির ঘোষণা দিয়ে আতাফলের চালানের মধ্যে মূল্যবান পারসিমন ফল নিয়ে আসে। এতে ৮ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছিল। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি পণ্যের চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমেনা এন্টারপ্রাইজ। বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড থেকে পণ্য চালানটি জব্দ করা হয়।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার রবীন্দ্র সিংহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে ফলের চালানটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে মামলা করে রাজস্ব ও জরিমানার টাকা আদায় করা হয়।
অবশ্য অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমেনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বলেন, লাইসেন্সটি ভাড়া নিয়ে বেনাপোলের রয়েল নামে এক ব্যক্তি কাজ করেন। এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
বন্দর সূত্রে আরও জানা যায়, বাণিজ্যিক পণ্য নিরাপত্তায় বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন রয়েছে। কিন্তু সেটি প্রায় এক মাস অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে বৈধ পণ্য চালানের ভেতর দিয়েই অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছেন অসাধু আমদানিকারকরা। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
আগেও বন্দরে বৈধ আমদানি পণ্যের সঙ্গে মিথ্যা ঘোষণার শাড়ি, থ্রিপিচ, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আটকের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে, ফলের ট্রাক ইচ্ছাকৃতভাবেই রাতে দেশে ঢোকান আমদানিকারকরা। এতে কাস্টমস ও বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে গভীর রাত পর্যন্ত বন্দরে খালাসের সুযোগ পান।
জানা গেছে, বিগত চার মাসে কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা, সেখানে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে ২৪০ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, পারসিমন ফল জাপানের জাতীয় ফল হিসেবে স্বীকৃত হলেও এটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে ফলে। এটি হিন্দিতে তেন্ডু ফলে নামে পরিচিত। অনেকটা টমেটো আকারের বৃত্তাকার বীজশূন্য ফলটি উচ্চ পুষ্টিমানসমৃদ্ধ। ফলটি মূল্যবান এবং আমদানি শুল্ক আতাফলের চেয়ে চারগুণ বেশি।