আচরণবিধি ভঙ্গ
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৫১ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩ ২০:২৪ পিএম
সরকারি প্রটোকল নিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। প্রবা ফটো
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে
পুলিশ প্রটোকল ও জাতীয় পতাকাবাহী গাড়ি নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের
হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। টানা
তিনবারের এই সংসদ সদস্য এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন তালিকায় নেই। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন
তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ সময় তাকে বহনকারী গাড়িতে দেখা যায় জাতীয় পতাকা। সামনে ছিল
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের একটি গাড়ি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ১৪ (১) ও ১৪ (২) ধারায় উল্লেখ রয়েছে—সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাহার সঙ্গে তাহার সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচনী কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড যোগ করিতে পারিবেন না। আর সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাহার নিজের বা অন্যের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অন্যবিধ সরকারি সুবিধাভোগ করিতে পারিবেন না।
সরকারি সুবিধাভোগী এসব
অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের
মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয়
উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ
সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়ররা রয়েছেন।
মনোনয়নপত্র জমা শেষে পুলিশ
প্রটোকল সম্পর্কে জানতে চাইলে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ’প্রটোকল ও জাতীয় পতাকা ব্যবহারে আচরণবিধি ভঙ্গ হয়নি। আমি শুধু জাতীয় পতাকাবাহী
গাড়ি ও প্রটোকল নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ঢুকতে পারব না।’
হুইপের প্রটোকলে থাকা দীপেন
নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হুইপের সঙ্গে পুলিশ প্রটোকল থাকবে কি থাকবে না, আমাদের কাছে এমন কোনো
নির্দেশনা আসেনি। তাই প্রটোকলে এসেছি।’
হুইপের আচরণবিধি ভঙ্গ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রার্থীদের আচরণবিধি দেখতে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা এসব বিষয়ে দেখভাল করছেন। আচরণবিধি ভঙ্গ হলে অবশ্যই নির্বাচনী বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা নেবেন।’
হুইপ এখনও প্রোটোকল পাবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।