বরগুনা সংবাদদতা
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৫২ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ১৫:৫৩ পিএম
ঘাটে ভেড়ানো মাছ ধরার নৌকা। ছবি : প্রবা
‘মোরা সাগরে মাছ ধরি। একটু নিম্নচাপ হইলেও সাগরে টিক্কা থাহা যায় না। কিন্তু এইবারের ঘূর্ণিঝড়ডা মাছ ধরার উপরে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হওনে মোগো সমুদ্রগামী জাইল্লারা বাঁইচ্চা গেছে।’
কথাগুলো বলছিলেন উপকূলীয় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সমুদ্রগামী জেলে মো. আইয়ুব আলী। তার মতে, নদী-সাগরে মাছ শিকারে সরকারের চলমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং হওয়ায় সমুদ্রগামী জেলেরা প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে এবার রক্ষা পেয়েছেন।
শুধু আইয়ুব আলীই নন, নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে না থাকায় সিত্রাংয়ের মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষায় নিষেধাজ্ঞাকেই আশীর্বাদ বলছেন উপকূলীয় বরগুনার জেলেরা।
এর আগে মা ইলিশ রক্ষায় ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য সাগর ও নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। নিষেধাজ্ঞার ১৮তম দিন সোমবার (২৪ অক্টোবর) দেশের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দুর্যোগের জেলা হলেও বরগুনায় কোনো আবহাওয়া অফিস নেই। তাই ঘূর্ণিঝড়ের সময় দ্রুত সঠিক পূর্বাভাস না পেয়ে সমুদ্রগামী জেলেদের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। কিন্তু এবার নিষেধাজ্ঞা ছিল বিধায় জেলেদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।’

উপকূলে চালানো ধ্বংসযজ্ঞ অপেক্ষা গভীর সমুদ্রে বেশ ভয়ংকর ছিল ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। কিন্তু সমুদ্রগামী জেলেরা নিষেধাজ্ঞা চলায় আগে থেকেই বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে না গিয়ে তীরে নিরাপদে অবস্থান করছিলেন; যার কারণে এবারের ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা।
তালতলীর জেলে মো. নজরুল বলেন, ‘সামান্য ঝড় হলেও সাগরে জেলেদের চুবানি খেতে হয়। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া, এই প্রথম কোনো সিগন্যালের মধ্যে আমরা সাগরেই ছিলাম না। থাকলে এবার ডুবে যেতাম, নয়তো সুন্দরবনে ভেসে যেতাম।’
গত সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়টির আঘাত হানার মূল কেন্দ্র উপকূলীয় বরগুনা থাকলেও পার্শ্ববর্তী ভোলা উপকূল দিয়ে ঝড়টি অতিক্রম করে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে বরগুনা সদর উপজেলার সোনাখালী এলাকায় ঘরের ওপর গাছ পড়ে শতায়ু এক বৃদ্ধার প্রাণহানি ঘটেছে। তবে বেড়িবাঁধ ও ফসলি জমির তেমন ক্ষতি হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
প্রবা/রাই/জেও