তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৫৩ পিএম
প্রবা ফটো
যশোরে ছয়টি নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরাই এখন নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন। ছয়টি আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের অন্তত ৩৫ জন নেতা। যারা প্রত্যেকেই নৌকা পেতে দলীয় মনোনয়নযুদ্ধে লড়াই করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন ৬৯ নেতা। এর মধ্যে দুটি আসনে পরিবর্তন হলেও বাকি চারটিতেই মনোনয়ন পেয়েছেন পুরোনোরাই। নতুন মুখ এসেছে যশোর-২ ও ৪ আসনে। যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে নৌকার টিকিট পেয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জামাতা চিকিৎসক তৌহিদুজ্জামান তুহিন ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া অভয়নগর) আসনে অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক বাবুল। এ ছাড়া যশোর-১ (শার্শা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, ষশোর-৩ (সদর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৫ (মনিরামপর) স্বপন ভট্টাচার্য এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক শাহীন চাকলাদার মনোনয়ন পেয়েছেন। এরই মধ্যে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ৩৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
দলীয় মনোনয়ন পেয়ে একদিকে যেমন প্রার্থী, সমর্থকদের মাঝে ভোটের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে; তেমনিভাবে দলের মনোনয়নবঞ্চিতরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয় ইতোমধ্যে নানা প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনীতির মাঠ থেকে চায়ের দোকানে পর্যন্ত শুরু হয়েছে নির্বাচনী হাওয়া। এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী আনতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিদ্রোহী তকমা দেওয়া হবে নাÑ এমন গুঞ্জনে অনেকটা প্রকাশ্যে নৌকার বিরুদ্ধে লড়তে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
যশোর-১ (শার্শা) : এই আসনে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য আফিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পরেই স্বতন্ত্র পদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় জোরেশোরে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসানও।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির। ফেসবুকে পোস্ট করে এ বিষয়ে স্থানীয় সবার মতামত জানতে চেয়েছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবিব। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলামও। আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন ১৯ নেতাকর্মী। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন চিকিৎসক তোহিদুজ্জামান তুহিন। মনোনয়নবঞ্চিত বাকি ১৮ জনের অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
যশোর-৩ (সদর) : এই আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপভি মোহিত কুমার নাথ ও কাজী আনিচুজ্জামান। তারা তিনজনই মনোনয়ন ফবম সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) : যশোর-৪ আসনে বর্তমান বিতর্কিত সংসদ রণজিত রায় এবার মনোনয়ন পাননি। এই নেতার বিপক্ষে ছিলেন যশোরের অধিকাংশ নেতাই। এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এনামুল হক বাবুল। গুঞ্জন উঠেছে বর্তমান সংসদ সদস্য ও রণজিত রায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। এ ছাড়া মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন সাবেক হুইপ শেখ আবদুল ওহাব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, অভয়নগর উপজেলার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল কবির বিপুল ফারাজী, আওয়ামী লীগ নেতা আরশাদ পারভেজও।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) : এই আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার গুঞ্জন উঠেছে জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ইয়াকুব আলী, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ও সাবেক সংসদ সদস্য টিপু সুলতানের ছেলে হুমায়ুন সুলতান।
যশোর-৬ (কেশবপুর): এই আসনে দল মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। তার বিপরীতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলাম ও হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেনও।
জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আমি যশোর সদর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। তবে ছয়টি আসনে অন্য কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, সেটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।