কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ও কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৪৮ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সৈকতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ পুণ্যস্নান করেন। প্রবা ফটো
আকাশে চাঁদের হাসি। হালকা কুয়াশায় ভেজা জোছনার আলো। উড়ছে বাহারি রঙের বেলুন। পুব আকাশে পূর্ণিমা তিথির নতুন সূর্য ওঠার অপেক্ষা। ঊষালগ্নে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নর-নারী মিলিত হয়েছেন। পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের আগমনে মুখর ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত।
রাতভর আরাধনা শেষে সোমবার (২৭ নভেম্বর) ভোরে কুয়াকাটার সৈকতে জড়ো হন সনাতন ধর্মাবলম্বী হাজারো মানুষ। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা নেমে পড়েন সাগরে পুণ্যস্নানে। এ সময় ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও সম্পন্ন করেন তরা। উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠ করে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ করেন এ বছরের সনাতন ধর্মাবলম্বীর রাস পূজা। জাগতিক পাপ মুছে যাবে- এই মনস্কামনায় পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ পুণ্যস্নান করেন।
এর আগে গত রবিবার রাতে কুয়াকাটায় শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে রাস উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম। মন্দির কমিটির সভাপতি বিপুল হালদারের সভাপতিত্বে এবং উৎসবের সমন্বয়ক কাজল বরণ দাসের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার প্রমুখ।
মন্দিরের পুরোহিত গৌর চক্রবর্তী জানান, পুরাণমতে, পূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণের রাসযাত্রা উৎসব উপলক্ষে পুণ্যার্থীরা সাগরে পুণ্যস্নানে অংশ নেন। মাসব্যাপী শারদীয় কাত্যায়নী পূজা শেষে পূর্ণিমাতেই শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্যে মেতেছিলেন। সেই থেকে এই উৎসব। ধর্মমতে, যেহেতু গঙ্গার জল সমুদ্রে মিশেছে, কাজেই পূর্ণিমার তিথিতে সাগরস্নানে অংশ নিলে পাপমোচন হবে। কয়েকশ বছর ধরেই কুয়াকাটায় রাস উৎসব করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হরতাল আর অবরোধের মধ্যেও যারা আসছে তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তিনটা চেক পোস্ট বসিয়েছি। সবার প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই শেষ হলো এবারের রাস উৎসব।’
চা শ্রমিকদের কাত্যায়নী পূজা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে চা-শ্রমিকদের ২৩তম কাত্যায়ানী পূজা। কমলগঞ্জ প্রতিবেদক জানান, সোমবার ভোরে হাজার হাজার ভক্ত গঙ্গাস্নান ও পূজা অর্চনা করতে হীরামতি এলাকার ধলাই নদীর তীরে সমবেত হন।
এদিন ভোররাত থেকে স্নান করে ভেজা কাপড়ে খোদিত কাত্যায়নীর মূর্তির সামনে চন্দন, দ্বীপ, ফল, পান, নবপত্র, মালা ও ধূপ দিয়ে পূজা করেন চা-শ্রমিক ভক্তরা। পরে উপস্থিত ভক্তবৃন্দের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে কার্তিক মাস ব্রত পালন শেষে গত রবিবার রাত থেকে মাধবপুর বাগানের বিভিন্ন মন্দিরে হরিনাম কীর্তন শুরু হয়।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণকরী (দাদু), সহসভাপতি পার্থ কাহার, প্রতাপ ভর ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাজুকরী জানান, ভগবত পুরাণ গ্রন্থে কাত্যায়নী ব্রতের উল্লেখ আছে। এই কাহিনী অনুযায়ী ব্রজের গোপীগণ কৃষ্ণকে পতিরূপে কামনা করে সমগ্র মাঘ মাসজুড়ে ব্রত করেন। এই এক মাস তারা মসলাবিহীন খিচুড়ি ও সিদ্ধজাত খাবার খান। সকালে ধলাই নদীতে স্নান করে নদীর তীরে মাটির কাত্যায়নী মূর্তি গড়ে দেবীর পূজা করা হয়। এরপরই নদীতে স্নান করে ভক্তরা বাড়ি ফিরে যান।