হরতাল-অবরোধ
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৩ ১২:১৬ পিএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:০৫ পিএম
হরতাল-অবরোধের কারণে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বাজার খাতুনগঞ্জে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ কমেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন বাজারে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকত, সেখানে এখন দিনে পাঁচ থেকে সাতটি ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে আসছে। আদা, রসুনসহ অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বিশেষ করে যেসব পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়, ওইসব পণ্যের সরবরাহ এখন অনেক কম। একই কারণে বেচাকেনাও কম।
আড়তদাররা জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধের কারণে দূরবর্তী এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা খাতুনগঞ্জে কম আসছেন। যে কারণে এখন খাতুনগঞ্জে বেচাকেনাও কম। হরতাল-অবরোধের কারণে এখন আগের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেচাকেনা কমেছে। ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ডাল, চাল, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের অন্তত ৩০০০ থেকে ৩৫০০ আড়ত আছে। এসব আড়তে গড়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা বেচাকেনা হয়। কিন্তু হরতাল-অবরোধের কারণে সেই বেচাকেনা ঠেকেছে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লা মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ, বেচাকেনা দুটোই কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ গাড়ি পেঁয়াজ আসত, হরতাল-অবরোধের সময় এখন দিনে পেঁয়াজ আসছে ৫ থেকে ৭ গাড়ি। বেচাকেনাও এখন অনেক কম হচ্ছে।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ওমর হাজ্জাজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের সংস্কৃতি এদেশের মানুষ অনেকটা ভুলে গেছে। কিন্তু সেটি এখন আবার দেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। এটি শুধু ব্যবসায়ী সমাজ নয়, সর্বস্তরের মানুষ এটি মেনে নেয় না। কারণ এখন সবাই উপার্জন করতে চায়, কেউ বসে থাকতে চায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি গবেষণায় উঠে এসেছেÑ এক দিন হরতাল থাকলে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। এই হিসাবে দেশে যদি তিন দিন হরতাল-অবরোধ থাকে তাহলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। যেখানে আমরা ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে একটি টানেল তৈরি করে ফেলতে পেরেছি। তাই হরতাল শুধু আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।’
স্বাভাবিক সময়ে একটি প্রাইম মুভার (কন্টেইনার পরিবহনের গাড়ি) থেকে মাসে গড়ে আয় হতো ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু হরতাল-অবরোধের কারণে এখন আয় কমেছে। প্রাইম মুভার মালিকরা জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধের কারণে গাড়িপ্রতি এখন মাসে আয় কমেছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে এ সময় গাড়ি চালালেও ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কম। যে কারণে এখন ভাড়াও কমছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফ্লাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হরতাল-অবরোধে আমাদের গাড়ি চলছে। কিন্তু ভাড়া আগের চেয়ে অনেক কম। ভাড়া কমে যাওয়ায় এখন আয়ও কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে একটি প্রাইম মুভার মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ভাড়া পেত। এখন সেটি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় নেমে আসছে। হরতাল-অবরোধের কারণে এখন গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আয় কমেছে।’
শুধু প্রাইম মুভার নয়, হরতাল-অবরোধের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছে পুরো পরিবহন খাত। যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে দেশের অন্যান্য খাতে। পরিবহন কম চলাচল করায় বাজারে সরবরাহ কমেছে খাদ্যপণ্যের। স্থবিরতা বিরাজ করছে দেশের পর্যটন শিল্পে। বেচাকেনা কমেছে ভোগ্যপণ্যের বাজারে।