ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:৫২ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:২৫ পিএম
ফরিদপুরে ১২ দিন ধরে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে দেখা দিয়েছে স্যালাইন সংকট। এতে অনেকের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত ১২ দিনে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ছয় শতাধিক রোগী। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে মেঝেতে এবং ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায়। শিশুরোগীদের এক শয্যায় তিনজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সরেজমিনে ১০ বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৫৭ জনকে দেখা গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। ১৬ নভেম্বর স্যালাইন চাওয়া হলেও এখনও সাড়া মেলেনি। তবে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ধার করে ৫০০ স্যালাইন আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এমনকি বাজারে গিয়ে টাকা দিয়েও তারা স্যালাইন পাচ্ছে না। যা পাচ্ছে তার দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এতে গরিব রোগীদের দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে চলেছে। এই সংকটের প্রতিবাদ করেছেন ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিপ্রা গোস্বামী। তিনি বলেন, ‘মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম চিকিৎসাসেবা। সেখানে সদর হাসপাতালে স্যালাইন থাকবে না, এটা হতে পারে না। সমস্যাটার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।’
তবে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, ’স্যালাইন সংকট সাময়িক। যেহেতু সারা দেশেই ডেঙ্গু রোগীর হার অনেক বেশি, সে কারণে স্যালাইন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্যই স্যালাইন প্রস্তুত করছে বেশি।‘
তিনি বলেন, ’আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই চাহিদা অনুপাতে স্যালাইন পেয়ে যাব।’ তিনি বলেন, ’শীত আসায় দিনে গরম আর রাতে ঠান্ডা পড়ছে। তাপমাত্রার এই ভারসাম্যহীনতার কারণে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের সতর্ক থাকতে হবে।’