মোহন আখন্দ, বগুড়া
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১২:২৭ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৩৪ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া থেকে দলটির একাধিক নেতা নবগঠিত তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেবেন বলে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বগুড়ার ৭টি আসনে তৃণমূল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়ে যে ১৭ জন আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক-বর্তমান কোনো নেতার নাম নেই। তৃণমূলের মনোনয়প্রত্যাশী ১৭ জনের মধ্যে বিকল্পধারা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) দুই নেতা ছাড়া বাকিদের স্থানীয় পর্যায়ে কোনো পরিচিতিও নেই।
তৃণমুল বিএনপির মিডিয়া বিভাগ থেকে বগুড়ায় ১৭ মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ১৬ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেনÑ বিকল্পধারার মাহবুব আলী, জেএসডির সালেহীন ইসলাম ওরফে সাজ্জাদ, আব্দুল মান্নান, বজলুর রহমান, আব্দুল মোত্তালেব, শামছুল হক, রনজু হোসেন বাপ্পি, আব্দুল ওহাব, সুমন মণ্ডল, রত্না খাতুন, শামীম আরা সুলতানা, মাওলানা নজরুল ইসলাম, ডা. মেরুল আলম মিশু, এনামুল হক, ইসমাইল হোসেন ও শেখ হাফিজুর রহমান। তবে অপর একজনের নাম জানা সম্ভব হয়নি।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে গত শনিবার সকাল থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৭২টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। রাজধানীর পল্টনের তোপখানা এলাকায় মেহেরবা প্লাজার ১৬ তলায় তৃণমূল বিএনপির কার্যালয়ে দলটির চেয়ারপারসন শমসের মোবিন চৌধুরী এবং মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন। সেদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
সেই সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সাক্ষাৎ পর্ব শেষে কোনো কোনো আবেদনকারীকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তবে সেই অপেক্ষা মনোনয়নপত্র প্রদানের জন্য নাকি অন্য কোনো কারণে সেটি খোলাসা করে বলা হয়নি।
তবে তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল হক তুহিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আজ রবিবার দেশের অন্য বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে রাতেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবেদনকারীদের মধ্যে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বাসিন্দা মাহবুব আলী একসময় বিকল্পধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে বগুড়া-৫ আসনে (শেরপুর ও ধুনট) থেকে মনোনয়নও চেয়েছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি ওই একই আসন থেকে নবগঠিত তৃণমুল বিএনপির প্রার্থিতার জন্য আবেদন করেছেন। তবে ওই আসনে রত্না খাতুন এবং শামীম আরা সুলতানা নামে আরও দুই নারী তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন।
আর বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার সালেহীন ইসলাম ওরফে সাজ্জাদ প্রায় দুই দশক আগে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে তিনি আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জেএসডি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি জেএসডির বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য। সালেহীন ইসলাম ওরফে সাজ্জাদ বগুড়া-৬ আসনে (সদর) তৃণমূল বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। জেলার রাজনীতিতে মর্যাদাপূর্ণ ওই আসনে মাওলানা নজরুল ইসলাম নামে আরও এক ব্যক্তি তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন।
এ ছাড়া আব্দুল মান্নান বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা), বজলুর রহমান বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ উপজেলা), আব্দুল মোত্তালেব ও শামছুল হক বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলা), রনজু হোসেন বাপ্পি, আব্দুল ওহাব ও সুমন মণ্ডল বগুড়া-৪ (কাহালু এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা) এবং ডা. মেরুল আলম মিশু, এনামুল হক, ইসমাইল হোসেন ও শেখ হাফিজুর রহমান বগুড়া-৭ আসন (গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা) থেকে তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন। বগুড়া-৭ আসন থেকে আরও একজন মনোনয়প্রত্যাশীর কথা শোনা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম জানা যায়নি।
বগুড়ায় তৃণমূল বিএনপির তৎপরতা নিয়ে কথা হয় শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরুর সঙ্গে। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, কিংস পার্টি হিসেবে পরিচিত নব্য ওই দলটি (তৃণমূল বিএনপি) সরকারকে একতরফা নির্বাচনে সহায়তা করার জন্য মাঠে নেমেছে। বগুড়ার বিএনপির নেতা তো দূরের কথা ওয়ার্ড পর্যায়ের একটি কর্মীকেও তারা টানতে পারবে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কীভাবে আরও বেগবান করা যায় তা নিয়ে কাজ করছেন।
সালেহীন ইসলাম ওরফে সাজ্জাদের তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে জেএসডির বগুড়া জেলা শাখার সদস্য রেজাউল বারী দীপন বলেন, ‘আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব নাÑ এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। যারা আমাদের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’