শফিউল আজম টুটুল, ঝালকাঠি
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৪:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:০১ পিএম
বজলুল হক হারুন (বামে), মনিরুজ্জামান মনির (মাঝে) ও মু. ইসমাইল হোসেন (ডানে)। প্রবা ফটো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঝালকাঠি-১ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। ১২৫ নং ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে ভোটারের সংখ্যা ২,১১,৯৮৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১,০৪,১৩৯ জন ও পুরুষ ভোটার ১,০৭,৮৪১জন। ৩য় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।
নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে এ আসনে জাসদের মেজর এমএ জলিলকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে এমএল এন্ড আইডিএল প্রার্থী নুরুল হক সিকদারকে হারিয়ে বিজয়ী হন বিএনপির মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের ফজলুল হককে হারিয়ে জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর কবির নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল সংরক্ষণ করা হয়নি। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল কুদ্দুসকে হারিয়ে বিএনপির শাহজাহান ওমর বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপির শাহজাহান ওমরকে হারিয়ে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে হারিয়ে বিএনপির শাহজাহান ওমর নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামালকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের বজলুল হক হারুন বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দীনকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের বজলুল হক হারুন বিজয়ী হন। ২০১৮ সালে বিএনপির শাহজাহান ওমরকে বিজয়ী হন হারিয়ে আওয়ামী লীগের বজলুল হক হারুন।
এ আসনের মূল সমস্য বেড়িবাঁধ ও নদী ভাঙ্গন। কয়েক দশক ধরে অব্যাহত ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বিশখালি নদী তীরবর্তী কাঁঠালিয়া উপজেলায় একটু পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় উপজেলা শহরসহ নদী-তীরবর্তী ১২টি গ্রাম। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। এছাড়া রাজাপুর উপজেলার বাদুরতলাসহ অনেক এলাকা নদীভাঙ্গনকবলিত হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি এসব এলাকায়। এবারও আবার নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে হাজির হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপি এখন পযর্ন্ত নির্বাচনে না আসায় নৌকা কে পাচ্ছেন তা নিয়েই চলছে এ আসনের জল্পনা কল্পনা। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ আসনে নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এম মনিরুজ্জামান মনির, কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মু. ইসমাইল, স্টামফোর্ড ইউনিভারসটির ট্রাষ্টি বোর্ড চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজ, আবুল কাশেম সীমান্ত, রফিকুল ইসলাম লিটন ও স্থানীয় আওআমী লীগ নেতা মজিবর রহমান মৃধা ও আলমগীর হোসেন। এরা সকলেই রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে কাঁঠালিয়া উপজেলা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী কেশোয়রা সুলতানা সালমা ও সাবেক সচিব খায়রুল ইসলাম মান্নানের সহধর্মিণী ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য ইসরাত জাহান। তবে ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও মূল প্রতিদ্বন্ধী থাকছেন ববলুল হক হারুন, মনিরুজ্জামান মনির ও মু. ইসমাইল। এদিকে বর্তমান সংসদস সদস্য বজলুল হক হারুনের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ইউপি চেয়ারম্যানদের দূরত্ব রয়েছে। দলীয় কর্মসূচি পালনে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠানেই দেখা যায়না এমপি হারুনকে। আবার এমপির অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিত থাকেন দুটি উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ অবস্থায় দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনি তৃণমূলের কতটা সমর্থন পাবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমপি হারুনের অনুসারীরা মনে করেন, এত কিছুর পরেও ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি এবারও মনোনয়ন পাবেন। এক্ষেত্রে তার সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছেন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির এবং কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মু. ইসমাইল। মনিরুজ্জামান মনির বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ায় দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। দুটি উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও মনিরুজ্জামানের সাথে রয়েছেন। এদিকে মু. ইসমাইল এলাকায় একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত থাকলেও এলাকায় নেতাকর্মীদের সাথে তার তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। সম্প্রতি তিনি এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হলে তার সম্ভবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এছাড়া মু. ইসসাইলও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ইতোপূর্বে তার মনোনয়ন নিশ্চিতের ব্যাপারে শতভাগ আশা পোষণ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বজলুল হক হারুন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জনগণের সেবা করার জন্য মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পাঁচবার মনোনয়ন দিয়েছেন। সেই থেকে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। বিগত ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। ২০০৮ সাল থেকে আমি এখান থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হয়ে ঝালকাঠি-১ আসনকে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই সকলে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মনিরুজ্জামান মনির প্রতিদিনের বাংলদেশকে বলেন, দলের দুঃসময় নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়ার যখন কেউ ছিল না তখন আমি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সে ধারা এখনও অব্যাহত আছে। তিনি আরো বলেন, আমাকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি।
এছাড়া এ আসনে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন ১৪ দলের অন্যমত শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাঁঠালিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন ও জাতীয় পার্টির (জেপি) যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট এনামুল হক রুবেলও জোটের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। ইতোমধ্যেই তারা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।