× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম-১৫

নদভীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চায় না স্থানীয় আ. লীগ

এস এম রানা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১০:০৪ এএম

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৪৫ এএম

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। প্রবা ফটো

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। প্রবা ফটো

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে টানা দুটি নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসন (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হলেও এখনও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পারেননি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো নৌকার প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তিনি। তবে এবারের নির্বাচনে নদভীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান না লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নদভীর সঙ্গে এবার দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের হেভিওয়েট ১৫ নেতা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্তত দুজন নেতা জানিয়েছেন, নদভীকে আবার মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রয়োজনে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। 

নদভীর বিরোধিতার কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, নদভী আওয়ামী লীগের কেউ নন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীও হতে চেয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রভাবশালী একজন সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে আওয়ামী লীগে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নেন নদভী এবং এমপি হয়ে যান। কিন্তু নৌকার প্রার্থী হিসেবে এমপি হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তিনি কখনও কাছে টানেননি। উল্টো নানাভাবে হয়রানি ও ভোগান্তিতে ফেলেছেন। কেবল দলীয় নেতাকর্মী নয়; এমপি নদভীর হাত থেকে পুলিশের সদস্য এবং সাধারণ মানুষও রেহাই পায়নি। তিনি অনেক ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও দেশ ছাড়া করেছেন। একের পর এক অনিয়ম করে নিজে সমালোচিত হয়েছেন, দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছেন। নিজের শ্যালক মো. রুহুল্লা চৌধুরীকে সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বানানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালাতেও পিছপা হননি তিনি। এসব কারণে আওয়ামী লীগের কেউ তাকে আর মেনে নিতে চায় না। 

নদভীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৫ জনের মধ্যে একজন ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘নদভী জামায়াতে ইসলামী থেকে ডিগবাজি দিয়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আওয়ামী লীগকে নিঃস্ব করেছেন। সর্বশেষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দখলে নিয়ে সেখানে পাকিস্তানি নাগরিক এনে চাকরি দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘পিএস এরফান, ভাতিজা সেলিম এবং তার স্ত্রী-শ্যালকেরা সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে আওয়ামী লীগের জন্য ‘জাহান্নাম’ বানিয়েছেন। জামায়াতি নদভীকে ঠেকাতেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি এবং মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ জানিয়েছি, নদভী ছাড়া দলীয় ত্যাগী নেতাদের একজনকে মনোনয়ন দিন।’ 

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেনÑ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকে মাঠে রাজনীতি করছি। নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। দলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ 

নদভীর বদলে আমিনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭৬ জন পদবিধারী নেতা। তাদের একজন লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নদভী দুই দফা এমপি নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগের চরম ক্ষতি করেছেন। তাকে লোহাগাড়া আওয়ামী লীগ তৃতীয় দফা দেখতে চায় না।’ 

এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নদভী সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিঃস্ব করেছেন, দলীয় আন্তঃকোন্দল বাড়িয়েছেন।’ 

এদিকে নদভীকে ঠেকাতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মোতালেব। জানতে চাইলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে মোতালেব বলেন, ‘নদভী সাতকানিয়া আওয়ামী লীগের যে ক্ষতি করেছেন, তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে। আমি সুদীর্ঘকাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছি। এই কারণে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।’ 

এই আসন থেকে আরও যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তারা হলেনÑ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা ডা. আ. ম. ম মিনহাজুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, সাজেদা সুরাত, মো. মইনুল ইসলাম মামুন, কামরুন নাহার, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ জাহাঙ্গীর, মো. এরশাদুল হক, মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন। 

এ ছাড়া আরও অন্তত দুজন নেতার ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছেÑ নদভী মনোনয়ন পেলে যারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রয়োজনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। এই দুই নেতার মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রতিদিনের বাংলাদেশের। এই মুহূর্তে নিজের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, ‘দল যদি নদভীকে পুনরায় নৌকার মাঝি হিসেবে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার নির্বাচনী মাঠে পাঠায়, তাহলে রাজনৈতিক সহকর্মীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে আমি অবশ্যই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’ এই মুহূর্তে পরিচয় কেন গোপন রাখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি ছাত্রজীবন থেকে সাতকানিয়ার মাঠে রাজনীতি করছি। ডিগবাজ নদভী সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আওয়ামী লীগের ‘কবর রচনা’ করবে, সেটা তো মেনে নিতে পারি না। আবার দলীয় আনুগত্যের কারণে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু বলতে পারি না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নদভীকে নৌকার প্রার্থী করা হলে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হব। আবার যদি নদভীর পরিবর্তে ত্যাগী নেতাদের একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হব না।’’ 

দুই দফা সংসদ সদস্য পদে থাকার পরও দলীয়ভাবে এতটা বিরোধের মুখোমুখি কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীকে ফোন করা হয়। তিনি অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা