সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:১৬ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:২৮ পিএম
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।
দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বে ভাঙ্গা, সদরপুর এবং চরভদ্রাসনের আওয়ামী লীগের রাজনীতি হয়ে উঠেছে বিভক্তি আর বিরোধের। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও এ বিরোধ গড়িয়েছে দলীয় মনোনয়ন আদায়ে। আলোচিত দুই নেতাই দলীয় মনোনয়নের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এ অবস্থায় ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের লড়াই হবে দ্বিমুখী।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ফরিদপুরের নির্বাচনি ৪টি আসনের মধ্যে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনটি ব্যতিক্রম। এ আসনভুক্ত এলাকায় গত কয়েক বছর ধরেই আওয়ামী লীগের চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে কোন্দল ও বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ সংসদীয় আসন এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের অনুসারীরা এ বিভক্তি জিইয়ে রেখেছেন।
ফরিদপুর-৪ আসনে ১৯৯১ সালের ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির চৌধুরী আকমাল ইবনে ইউসুফ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে আবারও বিএনপির চৌধুরী আকমাল ইবনে ইউসূফ নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিলুফার জাফরউল্লাহ নির্বাচিত হন। তবে ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিজয় লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।
মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, ‘যেহেতু আমি এ আসন থেকে পরপর দুবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, তাই প্রধানমন্ত্রী এবার আমাকে এ আসন থেকে নৌকার মাঝি করবেন। জনগণের কথা চিন্তা করে উন্নয়নের লক্ষে আমাকেই এবার নৌকা দিবেন বলে আমি আশাবাদী।’
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন চেয়েছিলেন নিক্সন চৌধুরী। কিন্তু সে সময়ে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও নির্বাচন করে কাজী জাফরউল্লাহকে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকেই দুই প্রেসিডিয়াম সদস্যের দ্বন্দ্ব যেন চরম আকার ধারণ করেছে। সব সভা-সমাবেশে দুজন দুজনকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রেখে থাকেন। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় আওয়ামী লীগের এই দুই মনোনয়প্রত্যাশী মাঠ নিজের দখলে নিতে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজী জাফরউল্লাহরই মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হয়। তবে আরেকটি পক্ষ মনে করছেন দুবার বিশাল ব্যবধানে মজিবুর রহমান চৌধুরীর নিক্সনের কাছে হেভিওয়েট প্রার্থী কাজী জাফরউল্লার পরাজয় বরণ করায় এবার নৌকার কান্ডারি হবেন নিক্সন চৌধুরীই। সব মিলিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনে নিক্সন ও জাফরউল্লাহর বিরোধ এখন তুঙ্গে। এমনকি এলাকায় নিক্সন ও কাজী জাফরউল্লাহর গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষও হয়ে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এমন প্রকাশ্য বিরোধে অস্বস্তিতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক বলেন, দলীয় নীতিনির্ধারকরা এবার যাকে মনোনয়ন দেবেন তার হয়েই অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করব। আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে কেউ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ এ ধরনের কাজ করেন তা হলে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।