প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:০০ পিএম
ফাইল ছবি
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দুবলার চর মৎস আহরণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। হিন্দুধর্মের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য বহুল পরিচিত হওয়ায় সেখানে প্রতি বছর কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয় এই চরে। অথচ দুবলার চরে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় মাওয়ালি, বাওয়ালি, বনজীবী, মৎসজীবীসহ দুবলার চরে আগত পর্যটকরা প্রায়ঃশই চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে থাকেন।
জনবিচ্ছিন্ন বালুময় এ চরে ছোট ছোট কুপ খনন করে সেখান থেকে পানি তুলে স্থানীয়দের ব্যবহার করতে হয়, যা স্বাস্থ্য সম্মত নয়। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার পর এবার এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে র্যাব। এ প্রেক্ষিতে দুবলার চরে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় র্যাবের তত্ত্বাবধানে সুন্দরবনের দুবলার চরে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পানিতে অতিমাত্রার লবণাক্ততা দূর করে জনসাধারণকে বিশুদ্ধ পানি পৌছে দিতে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তায় কয়েক বারের চেষ্টায় এই পানি পরিশোধনাগার স্থাপনের কাজ শেষ করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার এটির উদ্বোধন করা হবে। এরইমধ্যে দুবলার চর সুপেয় পানির কষ্টের দিন ফুরাতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল মো. মাহাবুব আলম ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সুন্দরবনের দুবলার চর পরিদর্শন করেছেন। সেসময় র্যাব সদর দপ্তরের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকতারা, বনবিভাগের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও নভেম্বর মাসে দুবলার চর কেন্দ্রীক হিন্দুদের রাশ উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই রাশ মেলায় আগত পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে আগামী ২৬ নভেম্বর র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, দুবলার চরে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে দুবলার চর ও এর আশেপাশের এলাকার মৎসজীবীসহ অন্যান্য পেশাজীবী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ব্যবসায়ী, পুণ্যার্থী, পর্যটক ও সাধারণ মানুষজনের বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির সংকট দূর করা সম্ভব হবে। উন্নত মানের এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে চব্বিশ হাজার লিটার পানি পরিশোধন করা যাবে। পানি সংগ্রহের স্থান হতে ১৫টি ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টের মাধ্যমে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির সুবিধা ভোগ করবেন। ইতিপূর্বে র্যাবই সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে সুন্দরবন ও এর আশেপাশের এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। দুবলার চরবাসীদের জন্য বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণে র্যাব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করে পুনরায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।