নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৫০ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:৫০ পিএম
তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। সংগৃহীত ছবি
তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করব এমন কোনো চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দিইনি। আমি ও আমার দলের নেতারা দলীয় ‘সোনালি আশ’ প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করব।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেলিফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি এ কথা বলেন।
তৈমূর আলম খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, কিছু হলুদ সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে পত্রিকায় লিখেছেন, আমি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছি। এটা একদম ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটই যদি করতে হয় তাহলে আমিতো আওয়ামী লীগেই যোগ দিতে পারতাম। দয়া করে আমার ব্যাপারে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর লিখে বিব্রত করবেন না।
তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি হতে গত মঙ্গলবার তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন ফরম তোলেন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি আমার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। নারায়ণগঞ্জ-২ ও ৩ আসন থেকে একাধিক, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে অ্যাডভোকেট আলী হোসেন (বিএনপি ও আইনজীবী ফোরাম থেকে বহিষ্কৃত), নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে অ্যাডভোকেট ভাসানী (বিএনপি ও আইনজীবী ফোরাম থেকে বহিষ্কৃত) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। নারায়ণগঞ্জের সবগুলো আসন থেকেই আমাদের তিন থেকে পাঁচজন করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
তৈমূর আলম খন্দকার বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহাম্মদ চুনকার (মেয়র আইভীর বাবা) অনুসারী ছিলেন। চুনকার হাত ধরেই তার রাজনীতিতে আসা। পরে আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি করেন তৈমূর আলমকে। কয়েক বছর পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ২০০৩ সালে তৈমূর আলম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হওয়ার পর ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন। পরে তাকে বিএনপি চেয়ারপাসনের ৬৩ নম্বর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৈমূর আলম পুনরায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন। কিন্তু সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র প্রার্থী হন। এর ফলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দেড়বছর দলের বাইরে থেকে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়ে মহাসচিব পদ পান।