কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:১৭ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৪১ পিএম
কলাপাড়ার ছোটবাইশদিয়ার নিখোঁজ জেলে জহির খানের মায়ের আহাজারি। প্রবা ফটো
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার ৪৭ জেলে। দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি তাদের। জীবিত কিংবা মৃত একটি নিশ্চিত খবরের আশায় স্বজনেরা ছুটে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
নিখোঁজদের মধ্যে রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৫ ও কলাপাড়ার ২২ জেলে রয়েছে। ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলি সাগর উপকূলে আঘাত হানলে তারা নিখোঁজ হয়।
রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাবুল হাওলাদারের মালিকানাধীন এফবি হিমু, মৌডুবি ইউনিয়নের দিদার মৃধার এফবি মায়ের দোয়া এবং ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হাসান জোমাদ্দারের এফবি হাসান নামের তিনটি ট্রলারের ২৫ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নিখোঁজ জেলে জহির প্যাদার স্ত্রী ফাতেমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্বামী নিখোঁজ হয়। এত দিন ধরে কোনো খোঁজ মেলেনি।’
একই এলাকার অপর নিখোঁজ জেলে সাইফুল পাহলানের স্ত্রী উর্মি বেগম বলেন, ‘সে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমার সাত মাসের একটি ছেলে আছে। এখন আমাদের কীভাবে চলবে।’
নিখোঁজ জেলে মো. তামিমের মা শহর ভানু বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলের সন্ধানটুকু কেউ এনে দেন। আমার মানিক আমার বুকে ফিরিয়ে দেন।’
কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকার ২২ জন জেলেও ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিপুর থানার ওসি ফরদৌস আলম খান। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে রাঙ্গাবালীর মোল্লাকান্দা গ্রামের বাহাউদ্দিনের দুই ছেলে তানমুন ও তানিম রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে তাদের সন্ধানে দিগবিদিক ছুটছেন তাদের বাবা বাহাউদ্দিন। খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সুন্দরবনসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
বাহাউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে দুইটার খোঁজ পাচ্ছি না। তারাই পরিবারের আয়ক্ষম লোক। দুই ছেলের দুটি করে মোট চারটি ছেলেমেয়ে আছে। ওদের সান্ত্বনা দিতে পারছি না। ছেলেদের ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
ট্রলারের মালিক মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘ট্রলারটি ঘূর্ণিঝড়ের সময় তীরে ফিরছিল। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের কবলে সাগরে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাদের সন্ধানে অন্য ট্রলার পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাইনি। বিষয়টি পুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছি।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর টিম নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কাজ করছে। আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এ ছাড়া নিখোঁজ জেলে পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে।’