এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:০৮ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:৩২ পিএম
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। ছবি : সংগৃহীত
টানা দুইবার নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। একসময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল এই আসনটি। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে এবং মহাজোটের মাধ্যমে নির্বাচন করায় খোকা দুবার এই আসনের এমপি নির্বাচিত হন।
তবে কোন্দল ভুলে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি খোকাকে ঠেকাতে একাট্টা হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র নেওয়া ১৫ নেতা। তাদের সঙ্গে রয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ওই ১৫ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা বেগম বাবলি, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মোবারক হোসেনের ছেলে এরফান হোসেন দীপ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য এএইচএম মাসুদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু জাফর চৌধুরী বীরু ও মাহফুজুর রহমান কালাম, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপকমিটির সদস্য দীপক কুমার বণিক দীপু, কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও তার সহোদর সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. বাবুল ওমর বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, হাজী আব্দুল মতিন খান ও জসিমউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, এইবার কোনোভাবেই এই আসন হাতছাড়া করতে চায় না সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ। তাই সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই আসনে জাতীয় পার্টিকে মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জাপার খোকাকে মাইনাস করার জন্য নানা ছক কষতে শুরু করেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এমপি খোকার সমালোচনায় মুখর। খোকার সমালোচনা করে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু জাফর চৌধুরী বিরু একাধিক কর্মসূচিতে বলেন, ‘আমাদের যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন, তাহলে আমরাও আপনাদের ছাড় দেব না। আমরা শেখ হাসিনার কর্মী। আপনার লোক রাস্তা থেকে চাঁদাবাজি করেন। আপনি নৌকা ছাড়া নির্বাচন করলে জামানত তো দূরের কথা একটা ভোটও পান কি না সন্দেহ। আর জাতীয় পার্টির প্রতীকে নির্বাচন করেন, তাহলে ১০-২০ হাজার ভোট পাবেন।’
পাশাপাশি এমপি খোকার সমালোচনায় মুখর ছিলেন সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, কাঁচপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন, সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম, সাবেক এমপি মরহুম মোবারক হোসেনের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এরফান হোসেন দীপ। তবে এমপি খোকার সমালোচনায় নীরব ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তার ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক।
তাদের সমালোচনায় চুপ না থেকে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছেন এমপি খোকাও। কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ ও এমপি খোকার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ ছড়িয়ে যায় সোনারগাঁসহ জেলার রাজনীতিতে।