ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ২২:২৩ পিএম
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আহত একজনকে। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। রাবিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৯টায় উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রাশেদ মিয়া নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২ মাস আগে থেকে স্থানীয় সরকারের একটি প্রকল্পের আওতায় গোছামারা কোদালকাটি খাল খননের কাজ পায় মমিনুল হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সময়ের আগেই নিয়ম না মেনে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সোলম মিয়া। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। গত দুই মাসে বালু উত্তোলনের পক্ষে ও বিপক্ষে একাধিক গ্রুপিং ও মারামারি হয়। মানববন্ধন করে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিনিধি এসে কৃষকদের আশ্বস্ত করেন। ১৫ দিন আগে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অমান্য করে বালু উত্তোলন করায় গত ১৬ নভেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাইপ খুলে ফেলেন। এ সময় স্থানীয়রা কিছু পাইপ ভেঙ্গে ফেলে। এতে করে সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাহান মিয়ার বাড়ি, হানকি বাড়ি ও সাত ভাই বাড়ি, ছাগইল্লা বাড়ির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই জেরে তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়।
শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূইয়া রিপন বলেন, ‘সকালে ড্রেজার শ্রমিক সরাফত উল্লাহকে মারধোর করে শাহজাহান মিয়ার পক্ষের লোকজন। এ সময় কিছু পাইপও তারা ভেঙ্গে ফেলে। এতে করে সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।’
শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘সিডিউল অনুযায়ী শুকনো মৌসুমে ৭০ শতাংশ কাজ ভেক্যু দিয়ে, ৩০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে করার কথা। তা না করে বর্ষা মৌসুম থেকেই প্রসাশনের বাধা উপক্ষো করে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। এতে আমাদের অনেক জমি ক্ষতি হয়েছে। বাধা দিলে আমাদের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণ করে।’
অপর পক্ষের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা মেনে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু একটি মহল ড্রেজারের শ্রমিককে মারধোর করে শতাধিক পাইপ ভেঙ্গে দিয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে এতে সংঘর্ষ বাধে।’