এম এ হান্নান, বাউফল (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৫৭ এএম
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকম চলছে স্বাস্থ্যসেবা। বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামগঞ্জের প্রান্তিক মানুষ। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারক না থাকায় কেন্দ্রগুলো অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
একজন করে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট ও আয়া থাকার কথা থাকলেও ধুলিয়া কেন্দ্রে দীর্ঘদিন সব পদ শূন্য রয়েছে। বন্ধ প্রায় সেবা কার্যক্রম। সম্প্রতি পাশের কেশবপু ইউনিয়নের ফার্মাসিস্টকে সপ্তাহে দুই দিন ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাকে প্রতি শনিবার অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনো রকম সচল করা হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। সপ্তাহে তিন দিন খোলা থাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। বাকি দিনগুলোতে বন্ধ থাকে সেবা।
ধুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা তাসলিমা বেগম বলেন, গত রবিবার এসেছিলাম পরামর্শ নিতে। কাউকে না পেয়ে ফিরে গেছি। বুধবার এসে একজনকে পেলাম। যদিও তিনি ডাক্তার না। তিনি একজন ফার্মাসিস্ট। তারপরও তার পরামর্শে কিছু ওষুধ নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, প্রতিটি কেন্দ্রে গর্ভবতী নারী, মা ও শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ পাবেন। যৌনবাহিত রোগ, ইপিআই, এমআর সেবা ও পরিবার পরিককল্পনা বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয়। এজন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পরিদর্শিকা এসব সেবা নিশ্চিত করবেন। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বলেন, ধুলিয়ার অধিকাংশ মানুষের পেশা জেলে ও কৃষি। কিন্তু কেন্দ্রে চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেবা বন্ধ।
একই চিত্র কেশবপুর ইউনিয়নের। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসারের পদ প্রায় দুই বছর ধরে শূন্য। একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রয়েছেন। তাদেরও দুজন ধুলিয়া ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। যার কারণে কেশবপুরের মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা মিলছে না। ১০টার পর খোলা হলেও ১২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। পাওয়া যায় না সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ। একই কথা জানান বাজেমহল গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিন, ফরিদাসহ অনেকে। কেশবপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান গাজী বলেন, ওটা খোলা না বন্ধও তাইতো জানি না।
এর চেয়ে করুণ অবস্থা বাউফল সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের। উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ও পরিদর্শিকার বদলিজনিত কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে পদ দুটি শূন্য রয়েছে। কায়না উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিদর্শিকা সারমিন আক্তার লাইজু সপ্তাহে দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি চার দিন বন্ধ থাকে কেন্দ্রটি। বাউফল ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বলেন, ওখানে কোনো লোকজন নেই। সব সময়ই বন্ধ থাকে। মাঝেমধ্যে একজন আসে। অল্প সময় থেকে চলে যায়। ওই কেন্দ্রে কোনো সেবা পাওয়া যায় না।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এতে একজন করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের কথা থাকলেও ধুলিয়া, কেশবপুর, কাছিপড়া, বাউফল সদর পদশূন্য রয়েছে। সূর্যমণি ইউনিয়নে একজন থাকলেও ছয় মাস ধরে তিনি ছুটিতে রয়েছেন। ১০ জন ফার্মাসিস্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র তিনজন। বাকি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী ও আয়াসহ বিভিন্ন পদে ১৬০ জন লোকবল থাকার কথা থাকলেও ৫১ জন নেই।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সানজিদা ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কারণে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছেÑ এটা ঠিক। যেখানে লোকবল নেই, সেখানে পাশের ইউনিয়ন থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লোকবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জাননো হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আ ফ ম আরাফাত হোসেন বলেন, জনবল সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি।