এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ১০:২৪ এএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের হোগলাপাশা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঝুলছে তালা। প্রবা ফটো
জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এতে এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কেন্দ্রই সপ্তাহের এক দিন খোলা থাকে। এদিকে সংশ্লিষ্টদের দৃশ্যমান নজরদারি নেই। কোনোমতে দিন পার করে মাস শেষ হচ্ছেÑ এভাবে বছরের পর বছর পার হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে, পাশাপাশি সরকারের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে গত রবিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার এ গ্রামীণ জনপদের প্রায় চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ১৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্র থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও), একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি), একজন আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরী থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে শুধু একজন নিরাপত্তা প্রহরী পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্র। সপ্তাহে একদিন খোলা হচ্ছে মূল ফটক। এ রকম সপ্তাহে পাঁচ দিন বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো হচ্ছে চিংড়াখালী, পঞ্চকরণ, নিশানবাড়িয়া, হোগলাপাশা, তেলিগাতী, ঢুলিগাতী ও জিউধরা ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে সপ্তাহের বৃহস্পতি, বুধ ও কোথাও রবিবার এক দিন খুলছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একাধিক কেন্দ্রের কোথাও এসএসিএমও বা একজন এফডব্লিউভি কর্মী।
এদিকে অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৬টি কেন্দ্রে ১৬ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার থাকার স্থলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ২২ জনের পরিবর্তে রয়েছে ১০ জন। দীর্ঘ পাঁচ-ছয় বছর এ পদগুলো শূন্য থাকায় একাধিক কল্যাণ কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন অনেকেই। যে কারণে মূল কেন্দ্রের কর্মরত এসএসিএমওদের কার্যক্রমের ওপর পড়ছে এর প্রভাব।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, হোগলাপাশা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির মূল ফটকে ঝুলছে তালা। চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তালাবদ্ধ দেখে অনেকে যাচ্ছে ফিরে। বন্ধ থাকবে কদিন, খোলা থাকবে কবে নাগাদ, তাও ঠিকঠাক বলতে পারছে না কেউ। নিরাপত্তা প্রহরী তিনিও রয়েছেন বাইরে। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রটি প্রায় সময় বন্ধ থাকে। পার্শ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর থেকে সপ্তাহে এক দিন একজন এসে খোলেন, কিছু সময় রোগী দেখে চলে যান।
কথা হয় রোগী জাহানারা বেগম, খুকি বেগম ও জয়নাল ফরাজীর সঙ্গে। তারা জানান, যে সময় তারা যান, দেখেন তালা ঝুলছে। কখন খোলা থাকে, কখন ডাক্তার আসে কিছুই জানেন না তারা। এগুলো কি কারও নজরে পড়ে না?
এ সম্পর্কে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনার মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান তারেক বলেন, কয়েক বছর ধরে জনবল সংকট থাকার কারণে এবং মাঠপর্যায়ে সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার না থাকায় কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সমস্যা থেকে যাচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।