× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হারিয়ে যাওয়া ছনের ঘর, দেখা মেলে শুটিং স্পটে

মহিউদ্দিন আহমেদ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৭ এএম

মাধবপুর উপজেলায় সুদৃশ্য চারচালা মাটি ও ছনের ঘর এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ছবিটি উপজেলার রতনপুর এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

মাধবপুর উপজেলায় সুদৃশ্য চারচালা মাটি ও ছনের ঘর এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ছবিটি উপজেলার রতনপুর এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটি ও ছনের ঘর। ঘরের চালায় ব্যবহার করার জন্য ছন এক ধরনের তৃণ বিশেষ। এই ছন ঘরের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার হতো। আর দেওয়াল নির্মাণে ব্যবহার হতো মাটি। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল মাটি ও ছনের ঘর। কিন্তু ইট-পাথরের ভিড়ে দিনে দিনে তা হারিয়ে যাচ্ছে। 

এখন পার্কের দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য বৈঠকখানায়, শখের রেস্টুরেন্ট, পাকা বাড়ির সামনে কিংবা বাগানে বসে আড্ডা দেওয়া বা শুটিং স্পটে ছনের চালা দেখা যায়। অনেকে ছাদের ওপর ছনের তৈরি ছোট ঘরটিকে ঐতিহ্যের রূপ দেয়। ছনের বাহারি ব্যবহার দেখে মনে হয় আধুনিকতার এক অনন্য ছোঁয়া। কিন্তু আবহমানকাল থেকে মানুষ বসবাসের জন্য গোলপাতা, পরে খড়, তারও পরে ছন দিয়ে ঘরের ছাউনি দিতো। 

কালের আবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমানকালের গ্রামীণ ঐতিহ্যের চিরচেনা এই রূপ। এখন মানবজীবন ও পরিবেশে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এ পরিবর্তনের ছোঁয়ায় ছনের তৈরি ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জগদীপুর বিটে ছন মহাল ছিল প্রায় ২০০ হেক্টর। পাহাড়গুলো এলাকাভিত্তিক ছনখোলা হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল। এছাড়া রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকায় ছন কাটা উৎসব চলত প্রতি বছর। ছন কেটে ধানের মতো মেলে দিয়ে কিছুদিন শুকানোর পর তা বিক্রির জন্য ভার বেঁধে হাটে নিয়ে যেত। 

ছনের ছাউনির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু কারিগর ছিলেন। তাদের দৈনিক মজুরি ছিল ৩০০-৪০০ টাকা। ছনকে খুলে তারপর কাস্তে দিয়ে ছনের উচ্ছিষ্ট ছাড়িয়ে অনেকটা শোলার মতো ঝুরঝুরে করা হতো। এরপর আগার পাতলা অংশ কেটে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে ছাউনি দেওয়া হতো। ছাউনির ওপরে বাঁশ ও বেত দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিয়ে পানি ছিটানো হতো, যাতে করে সহজে ছনগুলো বাঁশের ওপর বসে যায়। 

কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি এলাকার ছন। সেখানে তৈরি করা হয়েছে ন্যাড়া পাহাড় বন নামে সামাজিক বনায়ন। আধুনিক সভ্যতায় মানুষ এখন পাকা-আধাপাকা বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করছে টিন। যৎসামান্য ছন রঘুনন্দন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে কেটে আনেন পাহাড়ি লোকজন।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও এখন ছন খুব কমই দেখা যায়। ১০-১৫ বছর আগেও প্রচুর পরিমাণে ছন উৎপাদন হতো। বর্তমানে পাহাড়ের ঢালু কিংবা উপরিভাগে চা ও জুম চাষাবাদ, বৃক্ষরোপণের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। রেমন সাঁওতাল নামে একজন চাষি জানান, প্রতি নবছর ঘরে পুরাতন ছন সরিয়ে নতুন করে ছন ব্যবহার করতেন। এ সময়ে মানুষ ব্যস্ত থাকত ঘর ছাউনিতে। অনেকে অর্থাভাবে টিনের পরিবর্তে ছনকে ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করত। ছনের চাহিদা কমে যাওয়ায় পাহাড়িরাও বিমুখ হচ্ছে দিন দিন।

উপজেলার কয়েকটি ছনের বাজারে দেখা যায়, বর্তমানে ২-৪ হাত এক ভার ছনের দাম ৫০০ টাকা। আর ৫-৮ হাত এক ভারের দাম ৭০০ টাকার মতো। একসময় ছনের বাজারে ক্রেতার ভিড় দেখা যেত। চাঁনপুর বাজার, শাহপুর বাজার, তেলিয়াপাড়া, মনতলা, তেমুনিয়া বাজারে ছন বিক্রির জন্য আনা হতো। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গ্রামের বিভিন্ন এলাকার ঘরের ছাউনি হিসেবে ছনের ব্যবহারে ধুম পড়ে যেত। বছর গত হলেই ঘরের ছাউনিতে ছনের প্রয়োজন হতো। এ ছাড়া দুই-তিন বছর পরপর ছন পরিবর্তন করতে হয় বলে এটাকে অনেকে ঝামেলা মনে করেন। তাই ছনের ছাউনির ঘরের সংখ্যা কমতে শুরু করে। বর্তমানে এই ঘর খুব একটা চোখে পড়ে না।

উপজেলার কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান বলেন, ‘একসময় বাড়িতে মাটি ও ছনের ঘর ছিল। সেসব ঘরে বসবাসও ছিল বেশ আরামদায়ক। গরমকালে ঠান্ডা ও শীতকালে গরম অনুভূত হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসব ঘর হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্যের ছন ও মাটির ঘর রূপকথার গল্প মনে হবে।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা