কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:১৩ পিএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৫৪ পিএম
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুর্গাপূজা মণ্ডপে আনসার-ভিডিপি সদস্য নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশিক্ষক আজিম উস শানের বিরুদ্ধে। তবে নিয়োগ দিতে না পেরে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা শম্পা পারভীনের দায় দিচ্ছেন।
আনসার নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের এ ঘটনা ফাঁস হওয়ায় উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুণ্ন হচ্ছে বাহিনীর ভাবমূর্তি। এ বিষয়ে উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার সিংগা গ্রামের সীমা সরকারের অভিযোগে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির উপজেলা প্রশিক্ষক আজিম উস শান ৯৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যকে দায়িত্ব দেবেন বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে ৪৭ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। তবে তাদের কাউকেই দায়িত্ব দিতে না পেরে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিয়েছেন ওই প্রশিক্ষক।
ফুকরা গ্রামের ইকরাম হোসেন বলেন, ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনের জন্য আমি আজিম উস শান স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি ১০ জনকে দুর্গাপূজায় দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলে আমার কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। পূজার আগেই তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩ হাজার টাকা পাঠাই। কিন্তু তিনি কাউকে পূজায় দায়িত্ব দিতে পারেননি। আমার ছেলেকে আনসার-ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির কথা বলেও আড়াই হাজার টাকা নিয়েছেন। এসব টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করছেন।’
এ বিষয়ে প্রশিক্ষক আজিম উস শানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। পূজার সময় চার দিন ছিলাম না। তবে সীমা সরকার লোক দিতে চেয়েছিল। তার লোকগুলো ট্রেনিংপ্রাপ্ত না হওয়ায় নিতে পারিনি।’
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সম্পা পারভীন বলেন, ‘দুর্গাপূজায় আনসার নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন।’
আনসার-ভিডিপির গোপালগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট ফজলে রাব্বি বলেন, ‘কিছু লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, আজিম উস শানের বিরুদ্ধে এর আগেও নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির কারণে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভাগীয় মামলা হয়।