সিডরের ১৬ বছর
ইসমাইল হোসেন লিটন, শরণখোলা ও এইচ এম হুমায়ুন কবির, পটুয়াখালী
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:৩৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
আজ সেই ভয়াল ১৫ নভেম্বর। পটুয়াখালী, বাগেরহাটসহ উপকূলবাসীর জীবনে বিভীষিকাময় এক দুঃস্বপ্নের দিন। ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের দিন। ২০০৭ সালের এই দিনে বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড ও ধ্বংসলীলায় পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ক্ষতবিক্ষত করে দেয় বিভিন্ন এলাকার জনপদ। উপকূলীয় জনপদগুলো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। আজও সিডরের সেই ক্ষয়ক্ষতি বহন করে চলেছে অধিকাংশ পরিবার। এত বছর পরও ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় উপজেলায় প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ আজও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এলাকার ভুক্তভোগী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের একটাই দাবি। তারা একটা টেকসই বাঁধ চান। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, আমরা সিডরের পর একটি টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে আন্দোলন করেছি।
আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উঁচু বাঁধ দিয়েছে সরকার। কিন্তু আমাদের সেই টেকসই বাঁধের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নদী শাসনের ব্যবস্থা না করেই বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। সম্পূর্ণ বাঁধটাই বালু দিয়ে করা হয়েছে। ডিসেম্বরে বাঁধ হস্তান্তর করার কথা শুনেছি। অথচ তার আগেই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন ও ভূমিধস শুরু হয়েছে। সরকারের সঠিক তদারকি না থাকায় চীনা ঠিকাদার তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করে চলে গেছে।
এমন অভিযোগ প্রায় সব উপকূলবাসীর। উপকূলে বেড়িবাঁধ হলেও তাতে ভরসা পাচ্ছেন না তারা। শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী থেকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কুমারখালী ফসিয়াতলা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত বলেশ্বরের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাঁধসংলগ্ন জমি। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী, লালুয়া, ধুলাসার, মহিপুর, নীলগঞ্জ, মিঠাগঞ্জ এলাকার মানুষ তো বাঁধই দেখেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলের মানুষকে প্রতিবছর ঝড়-জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলা করে চলতে হয়। প্রয়োজনের তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা চরম ঝুঁকিতে বসবাস করেন। তাই কোনো দুর্যোগ এলেই চরাঞ্চল থেকে মানুষকে অনেক ঝুঁকি নিয়ে মূল ভূখণ্ডে আশ্রয় নিতে হয়। আবার অনেকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চরেই থাকে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাদা পারভেজ টিনু বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর পরই টিয়াখালী নদীর ভাঙনে হাফেজ প্যাদা বাঁধের বিভিন্ন অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। মিঠাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, মিঠাগঞ্জ বেড়িবাঁধের ১০০ মিটার বাঁধ সোনাতলা নদীর স্রোতে ধসে পড়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাত গ্রামের মানুষ।
মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী ফজলু গাজী বলেন, চিকন করে ছোট রাস্তা করেছে। মজবুত বেড়িবাঁধ করেনি। এক কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই অবস্থা কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গইয়াতলা বেড়িবাঁধের। এ বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীরা আশ্বস্ত করেছেন, তারা সব বাঁধ মেরামত করে দেবেন।