আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৪১ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৫৯ পিএম
গৃহবধূ সুচিত্রা করের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সুচিত্রা কর নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর স্বামী বলছেন, ছেঁড়া কাপড়ের সাহায্যে দরজার আড়ায় ঝুলে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। আর সুচিত্রা করের পরিবারের দাবি, হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।
রবিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর শহরের রাধানগর এলাকা থেকে সুচিত্রা করের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাতেই সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর জন্য আখাউড়া থানায় রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামী অজয় সূত্রধরকে আটক করেছে পুলিশ।
সুচিত্রা কর আখাউড়া পৌরসভার দেবগ্রাম এলাকার রাজমোহন সূত্রধরের ছেলে অজয় সূত্রধরের স্ত্রী ও উপজেলার নয়াদিল গ্রামের স্বপন করের মেয়ে। ছয় বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর থেকে পৌর শহরের রাধানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এ দম্পতি। তাদের ৫ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল শিপন হায়দার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, লোকমুখে শুনে আমি গিয়ে দেখি নারীর মৃতদেহ মাটিতে রাখা রয়েছে। তার স্বামী বলছে তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাদের প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানতে পারি তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত।
সুচিত্রার বাবা স্বপন কর বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমি জামাইকে বহু টাকা পয়সা দিয়েছি। শুধু আমার মেয়ের একটু সুখের জন্য। সে কিছু দিন পর পর মেয়েকে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিত। সবশেষে মেয়েকে আমার বাড়িতে তিন মাস রেখে পরে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটা অটোরিকশা কিনে দিয়েছি। তারপরও আমার মেয়েটার সুখ হলো না। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। এরই জেরে আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না।’
আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক আলী বলেন, গৃহবধূর স্বামী বলছেন, দরজার আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন সুচিত্রা কর। আর তার পরিবারের দাবি, এটি হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পেলে এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পুলিশ লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি, ঘরের মেজেতে শোয়ানো অবস্থায় পেয়েছে। আমরা নিহতের স্বামীকে আটক করেছি।